অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের শিক্ষার অধিকারকে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া টানা ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার ৮১৪ জন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বরাতে আজ এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত একটি লিখিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে শিক্ষা খাত এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ইসরায়েলের সুনির্দিষ্ট ও পদ্ধতিগত হামলায় এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৬৪৭ জন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং ১ হাজার ৫৪ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি গাজায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন হামলায় আরও ৮ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।
গাজায় ধ্বংসলীলা ও হতাহতের পরিসংখ্যান
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এককভাবে গাজা উপত্যকাতেই ২০ হাজার ৪৮০ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১ হাজার ৩৭৯ জন উচ্চশিক্ষার (বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষার্থী। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৩১ হাজার ৪৩৬ জন শিক্ষার্থী (যার মধ্যে ৩ হাজার ১৭ জন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া)। শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে গাজায় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪৮ এবং আহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চালানো ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:
এই ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেই বাস্তুচ্যুত শিক্ষার্থীরা গাজা বন্দরের অস্থায়ী তাঁবুর নিচে এবং শিক্ষকেরা নিজেদের বসতবাড়িতে কোনো রকমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করছেন। হামলার শিকার হয়ে দুই পা হারানো দাউদের মতো হাজারো আহত শিক্ষার্থী উন্নত চিকিৎসার জন্য এখনো বিদেশে যাওয়ার আকুল অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন, যদিও গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, ১৭ হাজারেরও বেশি রোগীকে বিদেশে যেতে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল।
পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও গ্রেপ্তার
অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি সেনা এবং অবৈধ ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের (Settlers) বর্বরতা থেমে নেই। সেখানে ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে একাধিকবার সামরিক অভিযান ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
পশ্চিম তীরের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
গাজায় শিশুদের মৃত্যুর এই নির্মম পরিসংখ্যান ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিলেও, ফিলিস্তিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার এই প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে।
একটি প্রজন্মের শিক্ষাজীবন এবং জীবন এভাবে বিপন্ন হওয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। গাজা ও পশ্চিম তীরের এই পরিস্থিতি কেবল বর্তমান ফিলিস্তিনের মানবিক বিপর্যয় নয়, বরং অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের পথকেও দীর্ঘমেয়াদে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিষয় : মানবাধিকার ফিলিস্তিন

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের শিক্ষার অধিকারকে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া টানা ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার ৮১৪ জন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বরাতে আজ এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত একটি লিখিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে শিক্ষা খাত এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ইসরায়েলের সুনির্দিষ্ট ও পদ্ধতিগত হামলায় এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৬৪৭ জন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং ১ হাজার ৫৪ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি গাজায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন হামলায় আরও ৮ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।
গাজায় ধ্বংসলীলা ও হতাহতের পরিসংখ্যান
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এককভাবে গাজা উপত্যকাতেই ২০ হাজার ৪৮০ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১ হাজার ৩৭৯ জন উচ্চশিক্ষার (বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষার্থী। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৩১ হাজার ৪৩৬ জন শিক্ষার্থী (যার মধ্যে ৩ হাজার ১৭ জন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া)। শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে গাজায় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪৮ এবং আহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চালানো ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:
এই ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেই বাস্তুচ্যুত শিক্ষার্থীরা গাজা বন্দরের অস্থায়ী তাঁবুর নিচে এবং শিক্ষকেরা নিজেদের বসতবাড়িতে কোনো রকমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করছেন। হামলার শিকার হয়ে দুই পা হারানো দাউদের মতো হাজারো আহত শিক্ষার্থী উন্নত চিকিৎসার জন্য এখনো বিদেশে যাওয়ার আকুল অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন, যদিও গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, ১৭ হাজারেরও বেশি রোগীকে বিদেশে যেতে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল।
পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও গ্রেপ্তার
অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি সেনা এবং অবৈধ ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের (Settlers) বর্বরতা থেমে নেই। সেখানে ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে একাধিকবার সামরিক অভিযান ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
পশ্চিম তীরের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
গাজায় শিশুদের মৃত্যুর এই নির্মম পরিসংখ্যান ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিলেও, ফিলিস্তিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার এই প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে।
একটি প্রজন্মের শিক্ষাজীবন এবং জীবন এভাবে বিপন্ন হওয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। গাজা ও পশ্চিম তীরের এই পরিস্থিতি কেবল বর্তমান ফিলিস্তিনের মানবিক বিপর্যয় নয়, বরং অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের পথকেও দীর্ঘমেয়াদে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন