ভারতের মহারাষ্ট্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারিত ৫ শতাংশ সংরক্ষণ (Quota) ব্যবস্থা বাতিলের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আইনি জটিলতায় ঝুলে থাকার পর, রাজ্য সরকারের এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো একে ‘সংখ্যালঘু বিরোধী’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করলেও সরকার একে কেবল একটি ‘প্রশাসনিক সংশোধন’ বলে দাবি করছে।
মহারাষ্ট্রের সামাজিক ন্যায়বিচার বিভাগ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায় যে, ২০১৪ সালে প্রবর্তিত মুসলিম সংরক্ষণের অধীনে জাতিগত শংসাপত্র প্রদানের কাঠামোটি বাতিল করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পেশাল ব্যাকওয়ার্ড ক্যাটাগরি-এ (SBC-A) এর আওতায় থাকা প্রায় ৫০টি পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংরক্ষণের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।
২০১৪ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন কংগ্রেস-এনসিপি জোট সরকার একটি অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এই ৫% কোটা চালু করেছিল। তবে বোম্বে হাইকোর্ট সেই সময় সরকারি চাকরিতে এই সংরক্ষণ স্থগিত করলেও শিক্ষার ক্ষেত্রে এটি বহাল রাখার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সরকার পরিবর্তন এবং আইনি সময়সীমা (ডিসেম্বর ২০১৪) পার হয়ে যাওয়ায় অধ্যাদেশটি আর আইনে পরিণত হতে পারেনি।
বর্তমান সরকারের সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রী সঞ্জয় শিরসাট জানান, "সংরক্ষণ কেবল ঘোষণার মাধ্যমে কার্যকর করা যায় না, এর জন্য নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন।" সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই কোটা গত ১০ বছর ধরে কার্যকর ছিল না, তাই বর্তমান সিদ্ধান্তটি কেবল একটি পুরনো অধ্যাদেশের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি মাত্র। তারা আরও দাবি করেন যে, ওবিসি (OBC) বা যাযাবর তালিকায় থাকা মুসলিম গোষ্ঠীগুলো আগের মতোই সুবিধা পাবে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিরোধী নেতারা। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চ্যবন বলেন, হাইকোর্ট শিক্ষার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও সরকার তা কার্যকর না করে বরং বাতিল করে দিল। এআইএমআইএম (AIMIM) নেতা ওয়ারিস পাঠান এবং কংগ্রেস নেতা আমিন প্যাটেল এই পদক্ষেপকে মুসলিম যুবকদের অগ্রগতির পথে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এনসিপি (শারদ পাওয়ার) দলের পক্ষ থেকে একে সরাসরি ‘সংখ্যালঘু বিরোধী’ এবং বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের ঊর্ধ্বসীমা এবং ধর্মভিত্তিক সংরক্ষণের আইনি জটিলতা এই ইস্যুতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে নির্বাচনের প্রাক্কালে সরকারের এই পদক্ষেপ রাজ্যটির সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিষয় : ভারত

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারতের মহারাষ্ট্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারিত ৫ শতাংশ সংরক্ষণ (Quota) ব্যবস্থা বাতিলের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আইনি জটিলতায় ঝুলে থাকার পর, রাজ্য সরকারের এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো একে ‘সংখ্যালঘু বিরোধী’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করলেও সরকার একে কেবল একটি ‘প্রশাসনিক সংশোধন’ বলে দাবি করছে।
মহারাষ্ট্রের সামাজিক ন্যায়বিচার বিভাগ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায় যে, ২০১৪ সালে প্রবর্তিত মুসলিম সংরক্ষণের অধীনে জাতিগত শংসাপত্র প্রদানের কাঠামোটি বাতিল করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পেশাল ব্যাকওয়ার্ড ক্যাটাগরি-এ (SBC-A) এর আওতায় থাকা প্রায় ৫০টি পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংরক্ষণের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।
২০১৪ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন কংগ্রেস-এনসিপি জোট সরকার একটি অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এই ৫% কোটা চালু করেছিল। তবে বোম্বে হাইকোর্ট সেই সময় সরকারি চাকরিতে এই সংরক্ষণ স্থগিত করলেও শিক্ষার ক্ষেত্রে এটি বহাল রাখার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সরকার পরিবর্তন এবং আইনি সময়সীমা (ডিসেম্বর ২০১৪) পার হয়ে যাওয়ায় অধ্যাদেশটি আর আইনে পরিণত হতে পারেনি।
বর্তমান সরকারের সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রী সঞ্জয় শিরসাট জানান, "সংরক্ষণ কেবল ঘোষণার মাধ্যমে কার্যকর করা যায় না, এর জন্য নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন।" সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই কোটা গত ১০ বছর ধরে কার্যকর ছিল না, তাই বর্তমান সিদ্ধান্তটি কেবল একটি পুরনো অধ্যাদেশের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি মাত্র। তারা আরও দাবি করেন যে, ওবিসি (OBC) বা যাযাবর তালিকায় থাকা মুসলিম গোষ্ঠীগুলো আগের মতোই সুবিধা পাবে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিরোধী নেতারা। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চ্যবন বলেন, হাইকোর্ট শিক্ষার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও সরকার তা কার্যকর না করে বরং বাতিল করে দিল। এআইএমআইএম (AIMIM) নেতা ওয়ারিস পাঠান এবং কংগ্রেস নেতা আমিন প্যাটেল এই পদক্ষেপকে মুসলিম যুবকদের অগ্রগতির পথে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এনসিপি (শারদ পাওয়ার) দলের পক্ষ থেকে একে সরাসরি ‘সংখ্যালঘু বিরোধী’ এবং বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের ঊর্ধ্বসীমা এবং ধর্মভিত্তিক সংরক্ষণের আইনি জটিলতা এই ইস্যুতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে নির্বাচনের প্রাক্কালে সরকারের এই পদক্ষেপ রাজ্যটির সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন