প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৫
ইসরাইলের বিপৎসীমায় গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা, আটকানোর প্রস্তুতিতে নৌবাহিনী
গাজা অভিমুখী আন্তর্জাতিক নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা ইসরাইলের ঘোষিত ‘বিপৎসীমায়’ প্রবেশ করেছে। ত্রাণবাহী প্রায় ৪০টি জাহাজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অধিকারকর্মীরা অবস্থান করছেন। ইসরাইলি বাহিনী জাহাজগুলো আটকের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা বর্তমানে গাজার উপকূল থেকে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। বুধবার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেত নিউজ জানায়, এই নৌবহর ইসরাইলের ঘোষিত বিপৎসীমায় প্রবেশ করেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি নৌবাহিনী ফ্লোটিলার কয়েকটি জাহাজ আসোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া এবং বাকিগুলো ডুবিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়া অধিকারকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে জাহাজগুলো জব্দ করারও প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।ইতিমধ্যে আসোদ বন্দরের আশপাশের হাসপাতালগুলোতে সম্ভাব্য হতাহতের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্দরে প্রায় ৫০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় প্রায় ৪০টি জাহাজ রয়েছে, যা মানবিক সহায়তা নিয়ে গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। এ নৌবহরে বিভিন্ন দেশের শত শত মানবাধিকারকর্মী অংশ নিয়েছেন। তাদের দাবি, গাজায় চলমান মানবিক সংকটে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অভিযাত্রা কেবল মানবিক সহায়তার উদ্যোগ নয়, বরং এটি বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে গাজার পরিস্থিতি ও ইসরাইলি নীতির প্রতি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনী বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।গাজা অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে অতীতে একাধিকবার আন্তর্জাতিক ফ্লোটিলা যাত্রা করলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইসরাইলি বাহিনীর হস্তক্ষেপের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ২০১০ সালে "মাভি মারমারা" ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি তাই আবারও আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত