প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৫
গাজাগামী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটকালো ইসরাইল, আটক ইউরোপীয় সংসদ সদস্য ও কর্মী
গাজাগামী বৃহত্তম মানবিক নৌযানবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’তে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা ও খ্যাতনামা কর্মীসহ ডজনাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে ইসরাইল।বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ইসরায়েলি নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করে গাজাগামী নৌবহরে অভিযান চালায়। প্রায় ৪০টির বেশি নৌযান ও ৪৫০ মানবাধিকারকর্মী নিয়ে যাত্রা করা এই বহরের লক্ষ্য ছিল গাজার ওপর ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অবরোধ ভাঙা এবং প্রতীকী মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।সংগঠকরা জানিয়েছেন, অন্তত ৩৯টি নৌকা ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থানবার্গ, বার্সেলোনার সাবেক মেয়র আডা কোলাউ এবং ইউরোপীয় সংসদ সদস্য রিমা হাসান রয়েছেন। তাদের সবাইকে জোরপূর্বক ইসরাইলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং পরে বহিষ্কার করা হবে বলে জানায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।ঘটনার প্রতিবাদে রোম, ইস্তাম্বুল, এথেন্স ও বুয়েনোস আইরেসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইতালির সবচেয়ে বড় শ্রমিক ইউনিয়ন শুক্রবার এক দিনের সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।তুরস্ক, কলম্বিয়া, পাকিস্তানসহ একাধিক দেশ ইসরায়েলের এই অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলে নিন্দা জানিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, গাজার ওপর আরোপিত অবরোধ ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ ছাড়া কিছু নয়। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, এই অবরোধ হামাসের অস্ত্র আমদানি ঠেকাতে অপরিহার্য।ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা সামান্য পরিমাণ সহায়তা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী একটি সমুদ্রপথে মানবিক করিডর প্রতিষ্ঠা করা।গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধ ও অবরোধে ইতোমধ্যে ৬৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেও ইসরায়েল অবরোধ শিথিলের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত