প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৫
দুই বছর ধরে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা, বিশ্ব নেতাদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
‘আল-আকসা বন্যা’ অভিযানের দুই বছর পূর্তিতে এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, গাজার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অব্যাহত হত্যাযজ্ঞে আন্তর্জাতিক সমাজের নীরবতা আজ মানবতার পরাজয়ের প্রতীক। তারা অভিযোগ করেছে, দুই বছর ধরে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, “দুই বছর পার হলেও দখলদার ইসরায়েল তার বর্বর যুদ্ধ বন্ধ করেনি। নিরস্ত্র সাধারণ মানুষকে হত্যার এই ধারাবাহিকতা চলছে বিশ্বের নৈতিক নীরবতার ছায়ায় এবং আরব বিশ্বের অভূতপূর্ব নিষ্ক্রিয়তার মধ্যে।”হামাসের মতে, “দুই বছর পেরিয়েছে—কষ্ট, নির্যাতন ও ত্যাগের। কিন্তু প্রতিরোধের চোখ এখনো স্থির রয়েছে আল-কুদস, আল-আকসা এবং সমগ্র ফিলিস্তিনের মুক্তির দিকে।”বিবৃতিতে তারা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলেন, “স্বাধীনতার পথে অসংখ্য ফিলিস্তিনি আত্মোৎসর্গ করেছেন। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন প্রতিরোধের শহীদ নেতারা—রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়া, ‘আল-তুফান’ অভিযানের কমান্ডার ইয়াহিয়া সিনওয়ার, উপপ্রধান সালেহ আল-আরুরি এবং আল-কাসসাম ব্রিগেডের সর্বাধিনায়ক মোহাম্মদ দেইফ।”হামাসের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ভোরে পরিচালিত “আল-আকসা বন্যা” অভিযান ছিল ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক প্রতিরোধের সূচনা। “সেই দিন থেকেই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার প্রথম অধ্যায় রচিত হয়,” বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।তারা আরও জানায়, “দুই বছর পরও লড়াই চলছে। এই সংঘাত শুধু সামরিক বা রাজনৈতিক নয়, এটি গোটা অঞ্চলের বাস্তবতা বদলে দিয়েছে।” হামাস দাবি করে, ফিলিস্তিনিরা এখন আগের চেয়েও ঐক্যবদ্ধ, তারা তাদের ভূমি ও অধিকার থেকে কখনও সরে দাঁড়াবে না।ইসরায়েলি সূত্র অনুসারে, ২০২৩ সালের সেই হামলায় শতাধিক ইসরায়েলি নিহত, আহত ও বন্দি হয়। এরপর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান পরিণত হয় বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ গণবিধ্বংসী ঘটনায়।মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে গাজায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ১৭৩ জন, আহত ১ লক্ষ ৬৯ হাজার ৭৮০ জন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া খাদ্য ও ওষুধ সংকটে ৪৬০ জন, তাদের মধ্যে ১৫৪ শিশু, অনাহারে প্রাণ হারিয়েছে।হামাস বলেছে, “আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ—আমাদের প্রতিরোধ চলবে, যতদিন না ফিলিস্তিন স্বাধীন হয় এবং বিশ্ব ন্যায়বিচারের পক্ষে জেগে ওঠে।”
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত