প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫
ইসরায়েলের দুই বছরের হামলায় গাজায় ১৭০১ স্বাস্থ্যকর্মী নিহত
ইসরায়েলের দুই বছরব্যাপী অব্যাহত হামলায় গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই আক্রমণে এখন পর্যন্ত ১৭০১ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। চিকিৎসা অবকাঠামো ধ্বংস, ওষুধের অভাব এবং ডাক্তারদের আটক পরিস্থিতিকে আরও করুণ করে তুলেছে।গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে ১৭০১ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৫৭ জন চিকিৎসক, ৩৬৬ জন নার্স, ১০৩ জন ফার্মাসিস্ট, ২৫৪ জন মেডিকেল সহকারী এবং ৬১১ জন প্রশাসনিক কর্মী।সরকারি প্রেস অফিসের প্রধান ইসমাইল আস-সাওয়াবিতা জানান, ইসরায়েলি বাহিনী হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোকে নিয়মিতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং আহত ও অসুস্থদের চিকিৎসা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।মন্ত্রণালয়ের আরও তথ্য অনুযায়ী, ৩৬২ জন স্বাস্থ্যকর্মী বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে আটক বা নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৮ জন ডাক্তার, ১৩২ জন নার্স, ৭২ জন টেকনিশিয়ান এবং ৪৭ জন প্রশাসনিক কর্মী।আটক বা নিহতদের মধ্যে কয়েকজন সুপরিচিত চিকিৎসকও রয়েছেন—ড. আদনান আল-বুরশ, শিফা হাসপাতালের অর্থোপেডিক প্রধান, আটক হওয়ার পর মে ২০২৪-এ কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।ড. মুহাম্মদ নিমর গাজাত, শিশুচিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, মে ২০২৪-এ বিমান হামলায় ছেলে ইউসুফসহ নিহত হন।ড. ইয়াদ আর-রান্তিসি, নারী রোগ বিশেষজ্ঞ, নভেম্বর ২০২৪-এ কারাগারে নির্যাতনে মৃত্যুবরণ করেন।ড. ওমর ফেরাউন, গাজা ইসলামিক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক, পরিবারসহ বিমান হামলায় নিহত হন।ড. হামদি আন-নাজ্জার, নাসির হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন, জুন ২০২৫-এ পরিবারের নয় সদস্যসহ নিহত হন।এছাড়া, ইসরায়েলি বাহিনী এখনও অনেক চিকিৎসককে অবৈধভাবে আটক করে রেখেছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক ড. হুসাম আবু সাফিয়্যা এবং ফিল্ড হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. মারওয়ান আল-হামস।মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই হত্যাকাণ্ড ও আটক অভিযান আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন। চিকিৎসাকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা যুদ্ধাপরাধের শামিল। গাজায় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর অভাব এমনিতেই সংকট তৈরি করেছিল; এখন দক্ষ মানবসম্পদের ক্ষতি সেই সংকটকে আরও গভীর করছে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত