প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৫
নর্থ সাউথ শিক্ষার্থীর শাস্তির দাবিতে উত্তাল মিরপুর, লং মার্চের হুঁশিয়ারি
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অপূর্ব পালের বিরুদ্ধে কোরআন অবমাননার অভিযোগের প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর মিরপুরে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইমাম-উলামা ও সাধারণ মুসলিম জনতার উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে বক্তারা অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া, ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সরকারের যথাযথ মনোযোগ না থাকায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অপূর্ব পালের বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মপ্রাণ মুসলিম সমাজ প্রতিবাদে মুখর হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার জুমার নামাজের পর ইমাম-উলামা ও তাওহীদি জনতার উদ্যোগে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বরে একটি বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা নূর মোহাম্মদ কাসেমী ও মাওলানা আখতারুজ্জামান কাসেমীর পরিচালনায় এবং আরজাবাদ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়ার সভাপতিত্বে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।সভাপতির বক্তৃতায় মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর কর্মকাণ্ডকে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশের ভূখণ্ডে কোরআনকে ঘৃণার অভিযোগে পাদদলিত করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, মুসলিম সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে, কিন্তু এখন এ ধরণের কটূক্তি ও অবমাননার বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা দেখাচ্ছে না এবং সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক বিবৃতি বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যদি ইসলাম, রাসূল (সা.), কোরআন, সাহাবায়ে কেরাম ও উম্মাহাতুল মুমিনিনদের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগ না করা হয়, তবে প্রয়োজনে গণআন্দোলনের পথে যেতে হবে— এমনকী যমুনার দিকে লং মার্চ করার মতো কঠোর কর্মসূচিও গ্রহণ করা হতে পারে।সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও অপূর্ব পালের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধাপে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যা এলাকার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।সমাবেশে বক্তব্য রাখেন— জামিয়া দ্বীনিয়া ইসলামিয়া কল্যাপুরের মুহতামিম মাওলানা ঈসা মিয়া, তাকওয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা গাজী ইয়াকুব, জামিয়া ইসলামিয়া বাইতুল ফালাহর মুহতামিম মাওলানা ইলিয়াস হাসান কাসেমী, গাবতলী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আনোয়ার হোসাইন ঢাকুবী, আন নূর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শফিকুল ইসলাম রুহানী, বাইতুল ফালাহ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা সাইফুদ্দিন ইউসুফ ফাহিম, শাহআলী ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা সোলাইমান, আকবর কমপ্লেক্সের মুখতি মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ। তাদের বক্তব্যেও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষায় সরকারের সক্রিয় ভূমিকার দাবি জোরালোভাবে উঠে আসে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত