প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৫
মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি স্বাভাবিক নয়, কারণ অনুপ্রবেশ: অমিত শাহের বিস্ফোরক দাবি
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার নয়াদিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন যে, গত কয়েক দশকে ভারতে মুসলিম জনসংখ্যার বৃদ্ধি উচ্চ জন্মহারের কারণে নয়, বরং প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলেই ঘটেছে। তাঁর মতে, এই অনুপ্রবেশকারীরাই ভারতের জনবিন্যাস বা ডেমোগ্রাফি বদলে দিচ্ছে। শাহের এই মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বাধীনতা দিবসের আগের মন্তব্যেরই প্রতিধ্বনি। শাহের এই বক্তব্য ডানপন্থী মহলে প্রচলিত ‘জনসংখ্যা জিহাদ’ তত্ত্বের বিপরীত মনে হচ্ছে, যেখানে মুসলিমদের ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি সন্তান ধারণের কথা বলা হয়।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিল্লিতে এক জনসভায় বলেন, "মুসলিম জনসংখ্যা ২৪.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে হিন্দু জনসংখ্যা ৪.৫ শতাংশ কমেছে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এটি উর্বরতার হারের কারণে ঘটেনি, বরং পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের কারণে হয়েছে।" শাহের এই মন্তব্য ভারতের জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।শাহ তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে আদমশুমারির তথ্য তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৫১ সালে ভারতের মোট জনসংখ্যার ৮৪ শতাংশ ছিল হিন্দু এবং মুসলিম ছিল ৯.৮ শতাংশ। ২০১১ সালের মধ্যে হিন্দু জনসংখ্যা কমে ৭৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং মুসলিম জনসংখ্যা বেড়ে ১৪.২ শতাংশ হয়েছে।শাহ অনুপ্রবেশকারীদের সংজ্ঞায়িত করে বলেন, "অনুপ্রবেশকারী কারা? যারা ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়নি এবং অর্থনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে অবৈধভাবে ভারতে আসতে চায়, তারাই অনুপ্রবেশকারী। বিশ্বের যে কেউ যদি এখানে আসতে চায়, তাদের অনুমতি দিলে আমাদের দেশ একটি 'ধর্মশালা' হয়ে যাবে।" তবে, তিনি স্পষ্ট করে দেন যে সরকার দেশভাগের পর ভারতে থেকে যাওয়া মুসলিমদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে না।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র অনুপ্রবেশের কারণেই আসামে মুসলিম জনসংখ্যা ২৯.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের কিছু জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা ৪০ শতাংশে এবং কিছু সীমান্ত এলাকায় তা ৭০ শতাংশেও পৌঁছেছে। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, "অনুপ্রবেশ ছাড়া এটা সম্ভব নয়।"সীমান্ত সুরক্ষায় কেন্দ্রের ব্যর্থতা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) সমালোচনার জবাবে অমিত শাহ ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নদী-সীমান্ত এবং দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা কঠিন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, "কেন্দ্র একা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পারে না, কারণ এটি রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বারা সমর্থিত যারা একে ভোটব্যাংক হিসেবে দেখে।"তিনি সরাসরি টিএমসি-কে অবৈধ অভিবাসীদের নথিপত্র পেতে সহায়তা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আমি টিএমসিকে জিজ্ঞাসা করতে চাই—অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্ত পেরিয়ে প্রথমে কোথায় যায়? কেন কোনো জেলা কর্মকর্তা তাদের পুলিশকে রিপোর্ট করেন না? আধার কার্ড কে তৈরি করে দেয়?"শাহ নির্বাচনী তালিকা সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের চলমান প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, "বিরোধীরা এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে কারণ তাদের ভোটব্যাংক ক্ষয় হচ্ছে। ভোটার তালিকা পরিষ্কার করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব।"
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত