প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৫
মালয়েশীয় চিকিৎসকের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: ইসরায়েলি কারাগারে নির্যাতনে শব্দ শুনেছি
গাজার উপর ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে যাওয়া ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ বা স্বাধীনতা বহরে অংশ নিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়া মালয়েশীয় এক চিকিৎসক কারাগারে থাকাকালীন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ডা. মাযিয়া বিনতে মোহাম্মদ নামে এই চিকিৎসক সম্প্রতি মুক্তি পেয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ফিরেছেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেছেন যে কারাগারে আটক থাকাকালীন তিনি দূর থেকে বন্দীদের, সম্ভবত ফিলিস্তিনিদের, উপর চালানো ভয়াবহ নির্যাতনের শব্দ শুনতে পেয়েছেন।মুক্তি পাওয়ার পর ইস্তাম্বুলে আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মালয়েশীয় চিকিৎসক মাযিয়া বিনতে মোহাম্মদ তার আটকাবস্থার বিবরণ দেন। তিনি জানান, গাজামুখী জাহাজে থাকা অন্যান্য সক্রিয় কর্মীদের সঙ্গে তার প্রধান লক্ষ্য ছিল চিকিৎসা সহায়তা এবং মানবিক সমর্থন প্রদান করা।ডা. মাযিয়া জানান, ইসরায়েলি সৈন্যরা তাদের জাহাজে ওঠার প্রায় ৪৫ মিনিট আগে চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলে। তাদের জাহাজে প্রায় ৭ থেকে ৯ জন সৈন্য আরোহণ করে। আক্রমণটি ছিল অত্যন্ত দ্রুত, সৈন্যরা উঠে পড়েই তল্লাশি শুরু করে দেয় এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র পরীক্ষা করতে থাকে।আটকের পর সকল কর্মীকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তারা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত খাদ্য ও জল প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ তাদের মনে সন্দেহ ছিল। তিনি বলেন, “আমাদের বেশিরভাগই খাদ্য ও জল প্রত্যাখ্যান করেছিল, যার কারণে আমরা প্রায় ৩৬ ঘণ্টা না খেয়ে থাকি।”চিকিৎসক মাযিয়াকে সবচেয়ে বেশি বিচলিত করেছিল কারাগারের ভেতর থেকে ভেসে আসা নির্যাতনের শব্দ। তিনি বলেন, "আমি এক ব্যক্তির কণ্ঠস্বর শুনেছিলাম, সম্ভবত একজন ফিলিস্তিনি, যার উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। শব্দটি বারবার আসছিল, মনে হচ্ছিল নির্যাতন দীর্ঘ সময় ধরে চলছে। আমরা জানতে পারি যে একই কমপ্লেক্সে আমাদের আগেই ফিলিস্তিনি বন্দীরা ছিল এবং আমরা দূর থেকে নির্যাতনের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম।"উল্লেখ্য, এই ঘটনার কয়েক দিন আগে গাজার অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে যাওয়া 'ফ্রিডম ফ্লোটিলা' আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়। এর এক সপ্তাহ আগে ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় 'রেজিলিয়েন্স ফ্লোটিলা' বা সহনশীলতা বহরের উপরও ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছিল। সেই সময় শত শত সক্রিয় কর্মীকে নির্বিচারে আটক করা হয়, যাদের বেশিরভাগকে পরে মুক্তি দেওয়া হলেও অনেকের পক্ষ থেকে 'নির্যাতন' ও 'খারাপ আচরণের' শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত