প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৫
শাপলা চত্বর গণহত্যার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে 'গণহত্যা' হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিনটিকে 'শাপলা চত্বর গণহত্যা দিবস' হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এই দিনটিকে সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে অভিযোগ তুলে সংগঠনটি অন্যান্য দাবির মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষকের পরিবর্তে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ এবং পবিত্র কোরআন ও সব ধর্মের অবমাননার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে।সোমবার (১৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম তাদের এই মূল দাবি ও অন্যান্য কর্মসূচি তুলে ধরে।সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ সাজিদুর রহমানের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।৫ মে 'শাপলা চত্বর গণহত্যা দিবস' ঘোষণার দাবিলিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সম্প্রতি শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যা ও পিলখানা ট্রাজেডি স্মরণে নতুন দুটি জাতীয় দিবস করা হলেও ৫ মের গণহত্যার দিনকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করা হয়নি, যা সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে হেফাজত মনে করে। তাদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের একটি সেকুলার চক্র ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আলেম-ওলামা, মাদরাসা শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ জনতার ত্যাগ-তিতিক্ষাকে জাতীয় জীবনে স্থান দিতে চায় না।লিখিত বক্তব্যে সরকারকে অবিলম্বে ৫ মে দিনটিকে 'শাপলা চত্বর গণহত্যা দিবস' হিসেবে ঘোষণার দাবি জানানো হয়। অন্যথায়, এটিকে বঞ্চনা হিসেবে ধরে নিয়ে তারা রুখে দাঁড়াবেন বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, জুলাই সনদেও ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা গণহত্যাকাণ্ড এবং ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ রাখার কথা বলা হয়েছে।সংগঠনটির পক্ষ থেকে উত্থাপিত অন্যান্য দাবি ও কর্মসূচিগুলো হলো:ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ: অনতিবিলম্বে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের বিধিমালা বাতিল করে পুরনো গণদাবি ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিধিমালা জারি করতে হবে। এ প্রসঙ্গে হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান বলেন, কোনো অভিভাবক তার সন্তানকে নাচ-গান শেখাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেন না, বরং সংগীতের চেয়ে মুসলমানদের সন্তানদের ধর্ম শিক্ষা জরুরি।ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর আইন: কোরআন অবমাননার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া দীর্ঘ বিচারহীনতাপ্রসূত আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠেকাতে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় অনুভূতির সুরক্ষায় ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর আইন করতে হবে। কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষ দূর করতেও কঠোর আইন জরুরি বলে সংগঠনটি মনে করে।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমির মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, সহকারী মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি প্রমুখ। শেষে দোয়া ও মোনাজাত করেন আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত