প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৫
সকালবেলার ঘুম ও তালাকের সম্পর্ক: এক বুজুর্গের হৃদয়স্পর্শী ব্যাখ্যা
বর্তমান যুগে মুসলিম সমাজে একটি বেদনাদায়ক বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে—তালাকের হার দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। অনেকেই এ বিষয়ে নানা সামাজিক, মানসিক ও পারিবারিক কারণ খুঁজে থাকেন। কিন্তু এক বুজুর্গ ব্যক্তির উত্তর আমাদের চিন্তার ভিন্ন এক দরজা খুলে দেয়।একবার তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল,“আমাদের সময়ে তালাকের ঘটনা এত বেশি কেন ঘটে?”তিনি সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর উত্তর দিয়েছিলেন—“এর কারণ হলো সকালবেলার ঘুম।”প্রশ্নকারী অবাক হয়ে জানতে চাইলেন, “সকালবেলার ঘুমের সঙ্গে তালাকের সম্পর্ক কী?”বুজুর্গ ব্যক্তি ব্যাখ্যা করলেন,“যে মানুষ সকালবেলা ঘুমায়, সে সাধারণত রাতে দেরিতে জেগে থাকে। আর সকালে ঘুমানোর ফলে মানুষ সেই বরকত থেকে বঞ্চিত হয়, যে বরকতের জন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ দোয়া করেছেন।”রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—> اللَّهُمَّ بَارِكْ لأُمَّتِي فِي بُكُورِهَا“হে আল্লাহ, আমার উম্মতের জন্য দিনের শুরুটা বরকতময় করে দিন।”— (আবু দাউদ, হাদীস: ২৬০৬; সখর গামেদি রা. সূত্রে বর্ণিত)এই দোয়া ইঙ্গিত দেয়, দিনটি যদি শুরু হয় আল্লাহর বরকত নিয়ে, তবে সেই বরকত মানুষের জীবন, কাজ ও সম্পর্কে প্রশান্তি এনে দেয়। আর যারা সকালে ঘুমিয়ে সেই বরকত হারায়, তাদের জীবনে ধীরে ধীরে অশান্তি, রাগ, উদাসীনতা ও পারিবারিক বিরোধ প্রবেশ করে।বুজুর্গ ব্যক্তি বলেছিলেন,“যে পরিবার বরকত থেকে বঞ্চিত হয়, সেই পরিবারে আল্লাহর রহমত থাকে না। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও বোঝাপড়া নষ্ট হয়ে যায়, আর তখন আল্লাহ যেটিকে সবচেয়ে ঘৃণা করেন—সেই তালাকের ঘটনা ঘটে।”সত্যিই, সকালবেলার সময়টি শুধু কাজের শুরু নয়—এটি বরকত, একতা ও শান্তির সময়। ইসলামের শিক্ষায় সকালকে জীবনের সেরা মুহূর্ত বলা হয়েছে। যে ব্যক্তি এই সময়টিকে ঘুমে নষ্ট করে, সে মূলত নিজের ঘর থেকে বরকত ও প্রশান্তি তাড়িয়ে দেয়।আসুন, আমরা সবাই নবীজীর ﷺ দোয়াকৃত সেই বরকতময় সময়টিকে জাগ্রত জীবনের অংশ করি। ঘুম নয়, তাজা উদ্দেশ্য ও পরিশ্রমের মাধ্যমে দিনের সূচনা করি—যাতে আমাদের ঘরে বরকত, ভালোবাসা ও স্থায়িত্ব ফিরে আসে।আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। আমীন।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত