প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৫
গাজায় যুদ্ধবিরতি লংঘন: ইসরায়েলি হামলায় একদিনে ৯ ফিলিস্তিনি নিহত; মৃতের সংখ্যা বাড়ায় উদ্বেগ
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একদিনে ৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পঞ্চম দিনেও ইসরায়েলি পক্ষ থেকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় হামাস ইসরায়েলের আচরণের ওপর নজরদারি করার জন্য মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার অপ্রতুলতা এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম -এর নিজস্ব সংবাদদাতার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে গাজা উপত্যকায় মোট ৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭ জন আজ নিহত হন এবং ২ জন আগে আহত হওয়ার কারণে মারা গেছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।সংবাদদাতার তথ্য অনুসারে, গাজা শহরের পূর্বে আল-শুজা’ইয়া এলাকায় কোয়াডকপ্টার মডেলের ইসরায়েলি ড্রোন থেকে গুলি চালানো হলে ৫ জন নিহত হন। তারা তখন নিজেদের বাড়ি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। এছাড়া, গাজার দক্ষিণের খান ইউনুস শহরের পূর্বে আল-ফাখারী এলাকায় একই ধরনের হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও একজন আহত হন।হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এই হামলাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির "স্পষ্ট লংঘন" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি চুক্তি রক্ষাকারী পক্ষগুলোর প্রতি ইসরায়েলের আচরণের ওপর নজর রাখার এবং তাদের অঙ্গীকার থেকে সরে আসা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আল-শুজা’ইয়া এলাকায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেছে। তবে তারা যুক্তি দিয়েছে যে তারা হামাসের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলী মেনেই কাজ করেছে।গাজায় মানবিক সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গাজার বেসরকারি সংস্থার নেটওয়ার্কের পরিচালক জানিয়েছেন, শত শত সাহায্যবাহী ট্রাক এখনও কেরেম আবু সালেম ক্রসিংয়ে আটকে আছে এবং আশ্রয় সামগ্রী উপত্যকায় প্রবেশ করতে পারেনি। ধ্বংসস্তূপের বিশাল স্তূপ গাজা সিটি ও খান ইউনুসে ত্রাণ কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে।গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির পর থেকে উদ্ধারকর্মীরা ২৫০টিরও বেশি মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। এর মধ্যে কিছু মৃতদেহ রাস্তায় পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। ভারি যন্ত্রপাতির তীব্র অভাবের কারণে উদ্ধার কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা তৈরি হচ্ছে। এর পাশাপাশি যুদ্ধাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ এবং বিস্ফোরক সামগ্রীর ঝুঁকিও বিদ্যমান।গাজা সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের প্রায় ৯০ শতাংশ রাস্তা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট প্রায় ৫ কোটি টন ধ্বংসস্তূপ ত্রাণ তৎপরতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে প্রধান রাস্তাগুলো খুলে না দিলে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করা অসম্ভব।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত