প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৫
হামাসের হাতে থাকা নিহত ইসরায়েলি বন্দীদের দেহাবশেষ প্রদানে বিলম্ব: রাফাহ ক্রসিং বন্ধ করল ইসরায়েল, মানবিক সহায়তা কমানোর হুঁশিয়ারি
নিহত ইসরায়েলি বন্দীদের অবশিষ্ট দেহাবশেষ ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস কর্তৃক হস্তান্তরে বিলম্ব হওয়ায় প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাফাহ ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থার পরামর্শে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে, দেহাবশেষ সম্পূর্ণভাবে ফেরত না আসা পর্যন্ত গাজায় মানবিক সহায়তা হ্রাস করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চলমান যুদ্ধবিরতি ও মানবিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।ইসরায়েলি চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাস কর্তৃক অবশিষ্ট বন্দীদের মৃতদেহ হস্তান্তরে ব্যর্থতার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বুধবার রাফাহ ক্রসিং না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা মনে করছে, হামাস "চুক্তি লঙ্ঘন" করেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে হামাসের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করা হয়। এই সুপারিশের ভিত্তিতেই রাজনৈতিক স্তর থেকে রাফাহ ক্রসিং বন্ধ রাখা এবং মানবিক সহায়তা কমানোর অনুমোদন দেওয়া হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিহত সকল বন্দীর দেহাবশেষ (মৃতদেহ) ফেরত না আসা পর্যন্ত এই ব্যবস্থা বহাল থাকবে।অন্যদিকে, হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেমকে উদ্ধৃত করে হিব্রু গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামাস মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছে যে তারা অবশিষ্ট দেহাবশেষ খুঁজে বের করতে "কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছে" এবং এই সমস্যা সমাধানে "বিশাল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে"।এদিকে, ইতোমধ্যে চারটি কফিনে থাকা নিহত বন্দীদের দেহাবশেষ ইসরায়েলে ফেরত আসার পর ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউট সনাক্তকরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আজ সকালে গাই ইলুজ এবং বিভেন জোশির পরিবারকে নিশ্চিত করেছে যে তাদের ছেলেদের মৃতদেহ সনাক্ত করা গেছে। এছাড়াও আরও দুই বন্দীর পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।এই প্রেক্ষাপটে, গত ৯ অক্টোবর কূটনৈতির সূত্র খবর প্রকাশ করে যে, গাজায় ইসরায়েলি সৈন্য ও বন্দীদের দেহাবশেষ অনুসন্ধানের জন্য একটি বহুজাতিক বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। মিশরীয় অবকাশ কেন্দ্র শারম আল-শেখে নিবিড় আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত আসে, যেখানে কার্যকর আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ছিল। এই আন্তর্জাতিক বাহিনীতে চারটি দেশের প্রতিনিধিরা রয়েছেন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, তুরস্ক এবং ইসরায়েল। তারা চলমান যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা এবং মানবিক সহায়তার প্রচেষ্টার পাশাপাশি কাজ করবে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত