প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৫
গাজায় গণহত্যা নিয়ে পশ্চিমাদের নীরবতা নৈতিক ভণ্ডামি: গাজা ট্রাইব্যুনালের প্রধান
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইন বিশেষজ্ঞ ও ‘গাজা ট্রাইব্যুনাল’-এর প্রধান অধ্যাপক রিচার্ড ফক বলেছেন, গাজায় চলমান গণহত্যা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিক্রিয়া তাদের নৈতিক ভণ্ডামির নগ্ন প্রকাশ। তিনি বলেন, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের সময় যে মানবিক অবস্থান তারা দেখিয়েছে, গাজায় তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি।ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত “গাজা ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত অধিবেশন”-এ অংশগ্রহণ শেষে আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ফক এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলো মানবিকতার পতাকা উঁচিয়ে ধরেছিল। কিন্তু গাজায় হাজারো নিরীহ মানুষের গণহত্যা চললেও তারা নীরব। এই দ্বিচারিতা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি তাদের নৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ।”ফক আরও বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব ও জ্বালানি স্বার্থ রক্ষার জন্য ইসরায়েলকে “অগ্রবর্তী ঘাঁটি” হিসেবে ব্যবহার করছে। এই কৌশল তাদের উপনিবেশোত্তর আধিপত্য টিকিয়ে রাখার অংশ।তিনি তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের উক্তি — “বিশ্ব পাঁচের চেয়ে বড়” — স্মরণ করে বলেন, এই বক্তব্যে জাতিসংঘ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জাতিসংঘের বর্তমান কাঠামো বিশ্বশান্তি রক্ষা বা বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অক্ষম।২০২৪ সালের নভেম্বরে লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত “গাজা ট্রাইব্যুনাল” একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিভিন্ন দেশের মানবাধিকারকর্মী, একাডেমিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি। ট্রাইব্যুনালটি ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ তদন্ত করছে, যার অধিবেশনগুলোতে “নাগরিক অবকাঠামোতে হামলা”, “বেসামরিক হত্যাযজ্ঞ” ও “আন্তর্জাতিক নীরবতা”র মতো বিষয় আলোচিত হচ্ছে।চলতি সপ্তাহে ইস্তাম্বুলে শুরু হওয়া ট্রাইব্যুনালের অধিবেশন রবিবার শেষ হবে, যেখানে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত