প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৫
গাজায় কোনো সেনা পাঠাবে না জর্ডান: রাজা আব্দুল্লাহ
জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর দেশ কোনো পরিস্থিতিতেই গাজায় সেনা পাঠাবে না। তবে জর্ডান ও মিশর যৌথভাবে ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তায় হতাশা প্রকাশ করেন এবং বলেন, গাজার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন।বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ স্পষ্টভাবে বলেন, “জর্ডান গাজায় কোনো সেনা পাঠাবে না।” তিনি ব্যাখ্যা করেন, শান্তি আরোপ করা ও রক্ষা করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাঁর মতে, “যদি কোনো পরিকল্পনা গাজায় শান্তি চাপিয়ে দিতে চায়, তবে কোনো দেশই এতে অংশ নিতে আগ্রহী হবে না।”রাজা আবদুল্লাহ বলেন, “আমরা আশা করি শান্তিরক্ষার কাজ ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর হাতে থাকবে, যাদের প্রশিক্ষণে জর্ডান ও মিশর আগ্রহী।” তবে তিনি সতর্ক করে দেন, এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হবে। “গাজায় সশস্ত্র টহল দেওয়া—এমন ঝুঁকি কোনো দেশই নিতে চাইবে না,”—বলেন তিনি।রাজা আবদুল্লাহ আরও বলেন, তাঁর দেশ রাজনৈতিকভাবে গাজার পরিস্থিতির খুব কাছাকাছি, তাই সেখানে সেনা পাঠানো যুক্তিযুক্ত নয়।হামাসের রাজনৈতিক ভূমিকা পরিত্যাগের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি তাদের চিনি না, তবে কাতার ও মিশর যারা তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে, তারা আশাবাদী যে হামাস তাদের প্রতিশ্রুতি রাখবে।”গাজার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাজা বলেন, “আমি নিজ চোখে যে ধ্বংস দেখেছি, তা আমাকে স্তম্ভিত করেছে। কীভাবে আন্তর্জাতিক সমাজ এটি ঘটতে দিল—এটা বিশ্বাস করা কঠিন।”অন্যদিকে, জর্ডানের রানি রানিয়া ট্রাম্প প্রশাসনের প্রশংসা করে বলেন, “দীর্ঘ সময় পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাস্তব চাপ প্রয়োগ করেছেন ইসরায়েলের ওপর।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, “প্যালেস্টাইন ও ইসরায়েল একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে পারে।”রানি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন, যেহেতু দুই বছরের ভয়াবহ যুদ্ধ থামাতে তারা কিছুই করতে পারেনি।উল্লেখ্য, ৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়, যা গাজায় দুই বছরের ভয়াবহ গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের ইতি টানে। এই সময়ে ৬৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ আহত হন—যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। গাজার ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।চুক্তির প্রথম ধাপে যুদ্ধের অবসান, ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার ও বন্দি বিনিময় কার্যকর হয়। দ্বিতীয় ধাপে একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব থাকলেও, এখনো সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত