প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫
পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতকারীদের হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত
দখলকৃত পশ্চিম তীরে দখলদার ইসরাইলি সেনা ও ইহুদি বসতকারীদের হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন কিশোরও রয়েছে। এদিকে গাজার দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও চলমান আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে।দখলকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে সোমবার দখলদার ইসরাইলি বাহিনী ও সশস্ত্র ইহুদি বসতকারীদের যৌথ হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে একজন কিশোরও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ইসরাইলি বাহিনী ওই অঞ্চলে অভিযান চালানোর সময় ইহুদি বসতকারীরা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন প্রাণ হারান এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
অন্যদিকে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনুসে সোমবার রাতে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান একাধিক স্থানে বিমান হামলা চালায়। এই হামলায় অন্তত কয়েকজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৬ জনে। যদিও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার আহ্বান জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী তবুও নিয়মিতভাবে গাজা ও পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস জানিয়েছে, গাজা সিটিতে একটি “জটিল অনুসন্ধান অভিযানের” পর তারা তিনজন ইসরাইলি বন্দির মরদেহ ইসরাইলের কাছে হস্তান্তর করেছে। এই পদক্ষেপকে মানবিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে ইসরাইলের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৮,৮৫৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭০,৬৬৪ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, চলমান এই সহিংসতা “মানবিক বিপর্যয়ের চূড়ান্ত রূপ” ধারণ করেছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে— তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে বেসামরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত