প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৫
ইসরায়েলকে ছাড়লে তবেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা: খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সোমবার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সম্পূর্ণভাবে বর্জন করলে, অঞ্চল থেকে সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নিলে এবং হস্তক্ষেপ বন্ধ করলে তবেই তেহরান তাদের সাথে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের ৪৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রদের সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। খামেনির মতে, "যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধত প্রকৃতি বশ্যতা ছাড়া আর কিছুই গ্রহণ করে না।" তার এই বক্তব্য চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনার মধ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি সোমবার তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার দেশের নীতির কঠোরতা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন না এলে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতার প্রশ্ন নেই। খামেনি বলেন, "যদি তারা (যুক্তরাষ্ট্র) সম্পূর্ণরূপে জায়নবাদী শাসনের প্রতি সমর্থন পরিত্যাগ করে, এই (অঞ্চল) থেকে তাদের সামরিক ঘাঁটি প্রত্যাহার করে নেয়, এবং এই অঞ্চলে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকে, তবেই এটি (সহযোগিতা) বিবেচনা করা যেতে পারে।"খামেনির এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানের উপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের চাপ বিদ্যমান। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে সরে গিয়ে ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করে। এছাড়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানি কর্তৃক 'স্ন্যাপব্যাক' প্রক্রিয়া কার্যকর করার পর গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ ইরানের উপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা বহাল করে। এই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, রবিবার আল জাজিরার সাথে এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সাথে কেবলমাত্র তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত, তবে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। তিনি আরও বলেন, "আমেরিকানরা যখনই সমান স্তরে এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনার জন্য প্রস্তুত হবে, তখনই আলোচনা শুরু হতে পারে।"চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালায়, যা একটি যুদ্ধের সূচনা করে। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রও ক্ষণিকের জন্য ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যাতে ইরানে ৯৩৫ জন এবং ইসরায়েলে ২৪ জন নিহত হয়। ১২ দিনের এই যুদ্ধ এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া তেহরান-ওয়াশিংটনের পারমাণবিক আলোচনা ভেস্তে দেয়। অবশ্য, জুন মাসের ২৪ তারিখ থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। খামেনি বলেন, "যদি দেশটি শক্তিশালী হয় এবং শত্রু বুঝতে পারে যে এই শক্তিশালী জাতির মোকাবিলা করলে লাভ হবে না বরং ক্ষতি হবে, তবে দেশটি অবশ্যই সুরক্ষা লাভ করবে।"
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত