প্রকাশের তারিখ : ১১ নভেম্বর ২০২৫
দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ব্যর্থতা, মুসলিম নেতাদের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ঘটনাটি দেশজুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। মুসলিম নেতারা একে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা বলে আখ্যা দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন।সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লার নিকটবর্তী এলাকায় ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণটি ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও উন্মোচন করেছে। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা অন্তত ১০ এবং আহত ডজনখানেক। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে।অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সভাপতি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রহমানি এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “যদি এটি দুর্ঘটনা হয়, তবে এটি এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়; আর যদি সন্ত্রাসী হামলা হয়, তবে তা গোটা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তোলে।” তিনি সরকারের প্রতি পক্ষপাতহীন ও বহুমাত্রিক তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানান।জামাত-ই-ইসলামি হিন্দের সভাপতি সৈয়দ সাদাতুল্লাহ হুসাইনি বলেন, “এটি মানবতার বিরুদ্ধে এক জঘন্য অপরাধ।” তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রধান মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানিও এক বিবৃতিতে বলেন, “জনগণকে শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, গুজবে কান দেওয়া যাবে না।”চিশতি ফাউন্ডেশনের প্রধান সৈয়দ সালমান চিশতি এক বিবৃতিতে বলেন, “ঘৃণা নয়, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে—এটাই আমাদের মানবতার দাবি।”ইন্টার ফেইথ হারমনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. খ্বাজা ইফতিখার আহমদ হামলাকে ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর ‘কাপুরুষোচিত আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই ভয়াবহ ঘটনায় জাতির আত্মা আহত হয়েছে; এখন আমাদের ঐক্যই সবচেয়ে বড় দেশপ্রেমিক প্রতিক্রিয়া।”অন্যদিকে মুসলিম পলিটিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার সভাপতি ড. তাসলিম রহমানি বলেন, “এটি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণ ব্যর্থতা। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন রাজ্যে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হলেও সতর্কতা নেওয়া হয়নি।” তিনি অভিযোগ করেন, “এমন ঘটনার পর মুসলিমদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হয়, পরে তারা আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হন, কিন্তু প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যায় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।”দিল্লি মাইনরিটিজ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. জাফরুল ইসলাম খান সতর্ক করে বলেন, “প্রমাণ ছাড়াই মুসলিমদের দায়ী করার অভ্যাস ভয়াবহ বিভাজনের জন্ম দিচ্ছে।” তিনি যুক্তরাজ্যের উদাহরণ টেনে বলেন, “ওখানে অপরাধী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নাম প্রকাশ করা হয় না; ভারতে কিন্তু উল্টোটা ঘটে।”অধিকারকর্মী সামিনা খান গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অসচেতন প্রতিবেদন কেবল ভয় ও অবিশ্বাস বাড়ায়; ক্ষতিগ্রস্তরা সত্য চায়, প্রচারণা নয়।”মারকাজি জমিয়ত আহলে হাদিস হিন্দের আমির মাওলানা আসগর আলি সালাফি বলেন, “এই জঘন্য অপরাধের কঠোর নিন্দা জানাই; অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”মানিথানিয়া মাক্কাল কাচ্চির সভাপতি ও তামিলনাডুর এমএলএ অধ্যাপক জওহিরুল্লাহ বলেন, “শান্তি ও মানবতার শত্রুদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”ঘটনাটির তদন্ত এখনো চলমান। তবে এ বিস্ফোরণ দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত