প্রকাশের তারিখ : ১৪ নভেম্বর ২০২৫
ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা সাইয়েদ আস‘আদ মাদানী: উপমহাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য বাতিঘর
ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের সাবেক প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি হযরত মাওলানা সাইয়েদ আস‘আদ মাদানী (রহ.) ছিলেন উপমহাদেশের মুসলমানদের এক নিবেদিত অভিভাবক। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে তার ভূমিকা আজও দৃষ্টান্ত। ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ‘ফিদায়ে মিল্লাত’ সম্মেলনে বক্তারা তুলে ধরেন তার বর্ণাঢ্য জীবন ও সংগ্রামী কর্মধারা।রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক ফিদায়ে মিল্লাত কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হযরত মাওলানা সাইয়েদ মাহমুদ মাদানী বলেন, তার পিতা মাওলানা সাইয়েদ আস‘আদ মাদানী (রহ.) ছিলেন মুসলিম উম্মাহ, দেশ এবং মানবতার জন্য আজীবন নিবেদিতপ্রাণ একজন সৈনিক।তিনি বলেন, ভারতের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হলেও হিন্দু-মুসলমানের সমান জনসংখ্যার দেওবন্দে কখনো দাঙ্গা হয়নি—যা তার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার নিরলস প্রচেষ্টার ফল। এ কারণেই সর্বমহলে তাকে সম্মানসূচক উপাধি দেওয়া হয় ‘ফিদায়ে মিল্লাত’—জাতির জন্য উৎসর্গিত মানুষ।মাওলানা মাহমুদ মাদানী স্মরণ করেন যে তার পিতা নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে কখনো পিছপা হননি। এমনকি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভেও অংশ নেন তিনি। বক্তারা বলেন, তার অবদান শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য তিনি ছিলেন প্রেরণা।বাংলাদেশের সঙ্গে মাদানী পরিবারের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তার দাদা হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.) চার বছর সিলেটে বোখারী শরিফ পাঠদান করেছেন এবং বাংলাদেশের হাজারো ছাত্র-শিক্ষকের সঙ্গে মাদানী পরিবারের আত্মিক সম্পর্ক আজও বিদ্যমান।সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন—পাকিস্তানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান, মাওলানা মওদুদ মাদানী, নেপালের এমপি মাওলানা খালেদ সিদ্দিকী, বাংলাদেশের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকসহ উপমহাদেশ ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ আলেমরা। বক্তারা সবাই মাওলানা আস‘আদ মাদানীর ত্যাগ, নেতৃত্ব, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সম্প্রীতির আদর্শকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার ওপর জোর দেন।অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া এবং সহ-সভাপতিত্ব করেন ফিদায়ে মিল্লাত ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা মাসরুর আহমদ। সম্মেলনটি পরিচালনা করেন মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীসহ আরও কয়েকজন আলেম।সম্মেলনের শেষ পর্বে বক্তারা বলেন, আজকের বিভাজন, সংঘাত ও অস্থিরতার সময়ে মাওলানা সাইয়েদ আস‘আদ মাদানীর জীবনদর্শন বিশ্ব মানবতার জন্য একটি দিশারি।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত