প্রকাশের তারিখ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
ঈমানদাররা ক্ষমতায় এলে প্রতিষ্ঠিত হবে ইসলামি রাষ্ট্র: মাওলানা মামুনুল হক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ইসলাম ও রাষ্ট্রকে আলাদা করে পরিচালনার চেষ্টা করলে সেকুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ গ্রহণকারী মুসলমানরা 'বেইমান ও কাফেরের দলে' পরিণত হবে। তার মতে, যারা না বুঝে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বানাতে চায় তারা মূর্খ, আর যারা বুঝে শুনে তা করে তারা ভণ্ড ও বেইমান। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, রাষ্ট্রক্ষমতা কেবল ঈমানদারদের হাতে গেলেই কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পাবে। গত রোববার রাতে চাঁদপুরে এক ধর্মীয় মাহফিলে তিনি এসব মন্তব্য করেন।চাঁদপুর শহরের হাসান আলী হাই স্কুল মাঠে জেলা কওমি সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে বক্তৃতাকালে মাওলানা মামুনুল হক তার দল ও ইসলামের রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণাটি প্রাধান্য পায়।মাওলানা মামুনুল হক মন্তব্য করেন, ধর্মনিরপেক্ষতা হলো ধর্ম ও রাষ্ট্রকে পৃথকভাবে পরিচালনা করা। তিনি মনে করেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা এই সেকুলারিজম গ্রহণ করতে পারে। তবে, "কোনো মুসলমান যদি ঈমান ও ইসলাম হৃদয়ে ধারণ করে, তবে তার পক্ষে সেকুলারিজম ভিত্তিক সরকার গঠন করা সম্ভব নয়।"তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ইসলাম যেভাবে রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলেছে, অন্য কোনো ধর্ম সেভাবে পরিচালনার নির্দেশনা দেয় না। তাই একজন মুসলমানকে অবশ্যই কুরআন ও সুন্নাহ অনুসারেই রাষ্ট্র চালাতে হবে।সরাসরি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যদি তারা ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়, তবে কোনো ইসলামী দলই তাদের সঙ্গে থাকবে না। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ সংযোজনের প্রসঙ্গ টেনে এনে প্রশ্ন তোলেন, তাঁর অনুসারীরাই কেন এখন ধর্ম ও রাষ্ট্রকে আলাদা করে দেশ চালাতে চান। মাওলানা হক স্পষ্ট করে দেন, এই প্রচেষ্টা কখনোই সফল হতে দেওয়া হবে না। তিনি এই ধরনের প্রচেষ্টাকারীদের 'মূর্খ এবং ভণ্ড' বলে আখ্যায়িত করেন।দেশের মানুষের উদ্দেশে বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে কেবল দেশে নয়, বরং গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতীয় মুসলিমসহ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে মুসলমানদের শাসন ফিরে আসবে এবং কোরআনের শাসন কার্যকর হবে। তার মতে, ঈমানদারদের হাতে ক্ষমতা গেলে নামাজ কায়েম হয় ও যাকাত বাস্তবায়িত হয়, যার নির্দেশ আল্লাহ কুরআনের মাধ্যমে দিয়েছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত