প্রকাশের তারিখ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫
আফগানিস্তানকে পথ ও ভারতকে কড়া বার্তা দিল পাকিস্তান: পরবর্তী জবাব হবে আরও দ্রুত ও ভয়াবহ
পাকিস্তানের সামরিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মুহূর্তে আফগানিস্তান ও ভারতের উদ্দেশে একযোগে কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ও নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (CDF) ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আফগান তালেবানকে পাকিস্তান ও তেহরিকে তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)—এই দুইয়ের একটিকে বেছে নিতে হবে। একই সঙ্গে ভারতের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ সংঘাতে পাকিস্তানের জবাব হবে আরও দ্রুত ও ভয়াবহ।সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাওয়ালপিন্ডির গ্যারিসন শহরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে এসব বক্তব্য দেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। ওই দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে পাকিস্তানের নতুন ডিফেন্স ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্স, যা দেশটির প্রথম সমন্বিত ত্রি–সেবা (স্থল, নৌ ও বিমান) যৌথ সামরিক কমান্ড।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আসিম মুনির বলেন,“ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে, নাকি খারিজি বা তেহরিকে তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)–কে সমর্থন করবে।”তিনি জানান, কাবুলকে একটি “স্পষ্ট বার্তা” পাঠানো হয়েছে—পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও সহায়তা বন্ধ করতে হবে।উল্লেখ্য, চলতি বছরের অক্টোবর থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। সীমান্তে কয়েক দিনের সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষ নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা অভিযোগ করে আসছেন, সাম্প্রতিক বহু হামলা আফগানিস্তানে অবস্থানরত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে পরিকল্পিত ও পরিচালিত হচ্ছে। তবে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে—পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায় Kabul-এর ওপর চাপানো অন্যায়।আসিম মুনিরের এই বক্তব্যের পর এখন পর্যন্ত আফগান তালেবান সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।একই অনুষ্ঠানে ভারতকে উদ্দেশ করে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে আসিম মুনির বলেন,“পাকিস্তান ও ভবিষ্যৎ সংঘাতে আমাদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কোনো ধরনের ভুল ধারণা রাখা উচিত নয়। পরবর্তী বার আমাদের জবাব হবে আরও দ্রুত এবং আরও বেশি তীব্র।”তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তান একটি শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্র। কিন্তু আমাদের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় সংকল্পের বিরুদ্ধে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”ফিল্ড মার্শাল মুনির নতুন ডিফেন্স ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্সকে পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোর জন্য একটি ঐতিহাসিক ও কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল ও বহুমুখী হুমকির মুখে স্থল, আকাশ, নৌ, সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যক্ষেত্রে একটি ঐক্যবদ্ধ কমান্ড অপরিহার্য।”তিনি আরও জানান, প্রতিটি বাহিনী তাদের নিজস্ব অপারেশনাল স্বকীয়তা বজায় রাখবে, তবে নতুন যৌথ হেডকোয়ার্টার্স সমন্বিতভাবে সব অপারেশন পরিচালনা ও তদারকি করবে।অনুষ্ঠানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর পৃথক কন্টিনজেন্ট ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান করে। তিনি তা পরিদর্শন করেন এবং পূর্ণ সামরিক সালাম গ্রহণ করেন।এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন—
পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ
পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমদ বাবার
এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা
তাঁরা সবাই নতুন প্রধান প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রধান হিসেবে আসিম মুনিরকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানান।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত