প্রকাশের তারিখ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
ভার্জিনিয়ায় মসজিদের দেয়ালে ক্রস আঁকার ন্যক্কারজনক ঘটনা, তদন্তে পুলিশ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের নরফোক এলাকায় অবস্থিত একটি মসজিদের বাইরের দেওয়ালে স্প্রে পেইন্ট দিয়ে একাধিক ক্রস আঁকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই বিদ্বেষমূলক হামলার ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় আতঙ্কিত এবং ক্ষুব্ধ। মসজিদ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে এবং পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলাকারীকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এই ঘটনাটি ইসলাম-বিদ্বেষী একটি ঘৃণামূলক অপরাধ হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিল (CAIR)।ভার্জিনিয়ার নরফোকের কলি এভিনিউতে অবস্থিত 'মসজিদ-ই-শুরা' সম্প্রতি এক বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছে। পরিচয়হীন এক ব্যক্তি স্প্রে পেইন্ট ব্যবহার করে মসজিদের বাইরের দেওয়ালে বিশালাকার একাধিক ক্রস এঁকে দেয়। এই হামলার ধরন থেকেই স্পষ্ট, এটি একটি বিদ্বেষমূলক কাজ যা স্থানীয় মুসলিমদের মনে ভীতি সঞ্চার করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।মসজিদ-ই-শুরার কর্মকর্তারা দ্রুত এই ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং নরফোক পুলিশের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আক্রমণকারীর চেহারা শনাক্ত করা গেছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে।এদিকে, আমেরিকার সর্ববৃহৎ মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অ্যাডভোকেসি গ্রুপ আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিল (CAIR) এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে নরফোক পুলিশের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে যে তারা যেন এই ঘটনাকে সম্ভাব্য ঘৃণামূলক অপরাধ হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে।CAIR-এর জাতীয় যোগাযোগ পরিচালক ইব্রাহিম হুপার এক বিবৃতিতে বলেছেন, "উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে এ ধরনের বিদ্বেষ-প্রণোদিত ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ কেবল স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়কেই নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতাকে মূল্য দেয় এমন সকল সম্প্রদায়কেই ভয় দেখানো এবং কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যে করা হয়। আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে দাবি জানাচ্ছি, তারা যেন এই ঘটনাকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিচার করে এবং সম্ভাব্য ঘৃণামূলক অপরাধ হিসেবে এর তদন্ত করে।"ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রতি হুমকি স্বরূপ এই হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম-ভীতি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। স্থানীয় মুসলিম সমাজ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত