প্রকাশের তারিখ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
ইসরায়েলি পুলিশের নিরাপত্তায় আল-আকসা চত্বরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশ ও তাণ্ডব
বৃহস্পতিবার অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ইসরায়েলি পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের একাধিক দল জোরপূর্বক প্রবেশ করে। তারা সেখানে উসকানিমূলকভাবে ঘুরে বেড়ায় এবং তালমুডিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম এই স্থানে বসতি স্থাপনকারীদের বারবার অনুপ্রবেশ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে এবং জেরুজালেমের নাজুক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।স্থানীয় সূত্র ও ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা দলবদ্ধভাবে আল-আকসা চত্বরে প্রবেশ করে এবং ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক পাহারার অধীনে তারা 'উসকানিমূলক ট্যুর' পরিচালনা করে। তারা চত্বরের মধ্যে প্রকাশ্যে তালমুডিক আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে, যা মসজিদ চত্বরের পবিত্রতা ও বিদ্যমান ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা (Status Quo) লঙ্ঘন।দুই দিন আগে, অর্থাৎ মঙ্গলবার, জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছিল যে ওই দিন সকালে ও সন্ধ্যায় মোট ১৮২ জন অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী জোর করে আল-আকসা চত্বরে প্রবেশ করে এবং পুলিশি সুরক্ষার অধীনে 'ডোম অফ দ্য রক'-এর (কুব্বাত আস-সাখরা) কাছে তালমুডিক আচার পালন করে। একই দিনে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রবেশ করা ৭৯৮ জন বিদেশি পর্যটকও মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করেছিল।অফিসিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু নভেম্বর মাসেই ৪,২৬৬ জন অবৈধ বসতি স্থাপনকারী এবং প্রায় ১৫,০০০ বিদেশি পর্যটক আল-আকসা চত্বরে প্রবেশ করেছে। বসতি স্থাপনকারীদের এই ধরনের অনুপ্রবেশের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।আল-আকসা মসজিদ মুসলমানদের কাছে বিশ্বের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান।অন্যদিকে, ইহুদিরা এই এলাকাটিকে 'টেম্পল মাউন্ট' নামে অভিহিত করে এবং দাবি করে যে প্রাচীনকালে এখানে তাদের দুটি মন্দির ছিল।আল-আকসা অবস্থিত পূর্ব জেরুজালেম, যা ইসরায়েল ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে দখল করে নেয়।১৯৮০ সালে ইসরায়েল গোটা শহরটিকে তাদের সঙ্গে সংযুক্ত (Annex) করে নেয়, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনোই স্বীকৃতি দেয়নি।বসতি স্থাপনকারীদের এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে ফিলিস্তিনিরা আল-আকসার ওপর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবে দেখে, যা চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত