প্রকাশের তারিখ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
যুক্তরাজ্যে বিপাকে লাখো মুসলিম: কেড়ে নেওয়া হতে পারে নাগরিকত্ব
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত লাখ লাখ মুসলিম ও সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার এক ভয়াবহ আইনি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতা বা ‘ডিসক্রিশনারি পাওয়ার’-এর কারণে প্রায় ৯০ লাখ মানুষের নাগরিকত্ব যেকোনো সময় বাতিল হতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় ও মধ্যপ্রাচ্য বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ মুসলিমরা এই বৈষম্যমূলক নীতির প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়েছেন।যুক্তরাজ্যভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক 'রান্নিমিড ট্রাস্ট' (Runnymede Trust) এবং মানবাধিকার সংস্থা 'রিপ্রাইভ' (Reprieve)-এর যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ সরকারের বর্তমান নাগরিকত্ব আইনটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে কারো নাগরিকত্ব বাতিল করতে পারেন।গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে বা যাদের পূর্বপুরুষ অন্য দেশ থেকে এসেছেন, তারাই এই ঝুঁকির শীর্ষে। ব্রিটিশ মুসলিমদের একটি বড় অংশ দক্ষিণ এশিয়া (বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত), আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বংশোদ্ভূত। ফলে তাত্ত্বিকভাবে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব এখন আর ‘স্থায়ী’ নয়, বরং তা সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।রিপ্রাইভ-এর কর্মকর্তা মায়া ফোয়া জানান, বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার প্রবণতা বহুগুণ বেড়েছে। সাবেক সরকারগুলো যে ক্ষমতার ব্যবহার শুরু করেছিল, বর্তমান প্রশাসন তার পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে। এর ফলে ব্রিটিশ নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও সংখ্যালঘু নাগরিকরা নিজেদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে অনুভব করছেন।রান্নিমিড ট্রাস্টের সিইও শাবনা বেগম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "এই ব্যবস্থাটি নাগরিকত্ব হারানোকে অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছে, যা মূলত প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বহিঃপ্রকাশ।" প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, এ ধরনের অস্পষ্ট ও একতরফা আইন গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে এবং একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রহীন করার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নাগরিকত্বের মতো মৌলিক অধিকার যদি প্রশাসনিক মর্জির ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের সরাসরি লঙ্ঘন।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত