প্রকাশের তারিখ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
গোরক্ষার নামে: উত্তরাখণ্ডে মুসলিম যুবককে মারধর ও রাস্তায় ঘোরানো, পরে পুলিশ হেফাজতে
উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপুরে গোরক্ষার নামে এক মুসলিম যুবককে প্রকাশ্যে মারধর ও রাস্তায় ঘোরানোর ঘটনা নতুন করে ভারতের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি যুবকটিকে লাঞ্ছিত করছে। পরে হামলাকারীরাই তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার, যখন উদম সিং নগর জেলার রুদ্রপুর শহরে মোহাম্মদ ফতেহ নামে এক মুসলিম যুবককে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরা প্রকাশ্যে মারধর করে এবং রাস্তায় ঘোরাতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলা ‘গোরক্ষা’র অজুহাতে সংঘটিত হয়।প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, একটি গরু সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই ভিডিওটি একটি হিন্দু সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এক নেতার বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর নিজেদের ‘গোরক্ষক’ দাবি করা একটি দল—যাদের সংগঠনের নাম গৌ রক্ষা সেবা সমিতি—মোহাম্মদ ফতেহকে ধরে রাস্তায় টেনে নিয়ে যায়। সংগঠনটির রুদ্রপুর শাখার সভাপতি হিসেবে পণ্ডিত কুমার আর্যের নাম উঠে এসেছে।প্রত্যক্ষদর্শী এক দোকানদার জানান, “তারা তাকে মারছিল, ধাক্কা দিচ্ছিল, স্লোগান দিচ্ছিল। মানুষ ভয় পেয়ে কেউ বাধা দেয়নি।” ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, জনসমক্ষে ফতেহকে ঘিরে ধরে ধাক্কা ও আঘাত করা হচ্ছে, আর আশপাশে ভিড় জমে অনেকে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছে।হামলার পর অভিযুক্ত দলই ফতেহকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং উভয় পক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট সরকারি বিবৃতি বা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।এই ঘটনায় মুসলিম সংগঠন ও নাগরিক সমাজ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। স্থানীয় এক মুসলিম নেতা বলেন, “এটা গোরক্ষা নয়, এটা প্রকাশ্য সাম্প্রদায়িক সহিংসতা। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।” মানবাধিকারকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন—কেন মারধরের শিকার ব্যক্তি পুলিশের হেফাজতে গেলেও হামলাকারীরা মুক্ত ঘুরছে।গত কয়েক বছরে উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় গরু বা ধর্মীয় অভিযোগে মুসলিমদের ওপর হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও অনিরাপত্তা বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, আইনের শাসনের বদলে মব জাস্টিস স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।এই ঘটনা আবারও প্রশাসনের ভূমিকা, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্য এবং সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। মুসলিম সংগঠনগুলো দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত