প্রকাশের তারিখ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
অনলাইন প্রোপাগান্ডা ও ইসলামি ভাবমূর্তি রক্ষায় সতর্কতা
একবিংশ শতাব্দীর এই ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ যেমন আশীর্বাদ নিয়ে এসেছে, তেমনি এটি অপশক্তির হাতে এক ভয়ংকর মারণাস্ত্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে আমাদের দেশ এক সংবেদনশীল সময় পার করছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন এবং একই সাথে মাদরাসাগুলোর বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। এই দ্বিমুখী গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একদল কুচক্রী মহল সুপরিকল্পিতভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে মিথ্যার জাল বুনছে।বিশেষ করে মাদরাসা শিক্ষার্থী এবং ধর্মপ্রাণ সচেতন মুসলিমদের লক্ষ্য করে নানা ধরণের উসকানিমূলক 'স্ক্রিপ্ট' সাজানো হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে তৈরি করা নকল ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে এমন সব পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করে তাদের কোনো নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করা। দিনশেষে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায়ভার এককভাবে ইসলামি ঘরানার আলেম-ওলামা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে তাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার এক গভীর ষড়যন্ত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই সংকটময় মুহূর্তে আবেগ নয়, বরং ঈমানি প্রজ্ঞা এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে সত্য-মিথ্যা যাচাই করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে। বিশেষ করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঢালাওভাবে ইসলামি ঘরানার মানুষ এবং মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা চলছে। একে একটি "সাজানো স্ক্রিপ্ট" হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো ইসলামি আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক পরিবেশ উত্তপ্ত হতে পারে। এমন সময়ে স্বার্থান্বেষী মহল মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার বা তাদের উসকে দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করতে পারে। নির্বাচনের এই সংবেদনশীল সময়ে সামান্য ভুল পদক্ষেপও বড় ধরনের আইনি ও সামাজিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।পড়াশোনা ও বার্ষিক পরীক্ষার গুরুত্ববর্তমানে দেশের অধিকাংশ কওমি ও আলিয়া মাদরাসায় বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়।মনোযোগ ধরে রাখা: উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট না করে পূর্ণ মনোযোগ পড়াশোনায় দিতে হবে।ছুটির সময়ে সতর্কতা: পরীক্ষার পর ছুটির সময়টাতে অনেক শিক্ষার্থী বাড়িতে অবসর কাটায়। এই সময়েই তারা বেশি অনলাইন প্রোপাগান্ডার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। ছুটির সময়েও যেন তারা কোনো মিছিলে বা গুজবে পা না দেয়, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।শিক্ষকদের ভূমিকা ও দায়িত্বমাদরাসা শিক্ষার্থীরা অধিকাংশ সময় পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকার ফলে বাইরের জগতের ডিজিটাল কারসাজি সম্পর্কে খুব একটা ধারণা রাখে না। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম:সচেতনতামূলক ক্লাস: শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাইয়ের (Fact-check) পদ্ধতি শেখানো।প্রযুক্তিগত সচেতনতা: বর্তমান সময়ে AI (Artificial Intelligence) দিয়ে তৈরি নকল ছবি, ভিডিও এবং ভয়েস ক্লোনিং ব্যবহার করে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে—শিক্ষার্থীদের এই ডিজিটাল জালিয়াতি সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে।গুজব প্রতিরোধ: কোনো খবর শোনা মাত্রই উত্তেজিত না হয়ে কুরআন-হাদিসের আলোকে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব তাদের বুঝিয়ে বলতে হবে।ধৈর্য ও স্থিতধীতা: যেকোনো পরিস্থিতিতে উত্তেজিত না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা।অনলাইন সচেতনতা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো মন্তব্য বা শেয়ার করার আগে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব চিন্তা করা।বিচক্ষণ নেতৃত্বের অনুসরণ: যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে বড় ও বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ এবং দিকনির্দেশনা মেনে চলা।আগুন যে পক্ষই জ্বালাক, দিনশেষে তার কালিমা যেন দাঁড়ি-টুপি বা মাদরাসা শিক্ষার্থীদের গায়ে না লাগে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন। আবেগ নয় বরং বিবেক ও ঈমানি প্রজ্ঞা দিয়ে এই সময় পার করতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত ইলম অর্জন এবং দেশ ও জাতির প্রকৃত কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করা।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত