প্রকাশের তারিখ : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রে পবিত্র কোরআন অবমাননার প্রতিবাদে ইয়েমেনে উত্তাল জনসমুদ্র
যুক্তরাষ্ট্রের একজন কট্টরপন্থী রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীর হাতে ধারাবাহিকভাবে পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে ইয়েমেন। শুক্রবার রাজধানী সানায় আয়োজিত এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়ে এই ধৃষ্টতার তীব্র নিন্দা জানান। বিক্ষোভকারীরা একে ইসলামি উম্মাহর বিরুদ্ধে একটি 'পরিকল্পিত যুদ্ধ' হিসেবে অভিহিত করেছেন।শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ইয়েমেনের রাজধানী সানায় প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি মার্কিন সিনেট প্রার্থী জেক ল্যাং (Jake Lang) কর্তৃক পবিত্র কোরআন অবমাননার প্রতিবাদে এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। হাতে কোরআনের কপি এবং মার্কিন-ইসরায়েল বিরোধী ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভকারীরা স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেন।উল্লেখ্য, কট্টর খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদী হিসেবে পরিচিত জেক ল্যাং গত নভেম্বর মাসে মিশিগানের ডিয়ারবর্ন এলাকায় একটি ইসলামবিদ্বেষী সমাবেশের সময় পবিত্র কোরআন পোড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় মুসলিমদের বাধার মুখে তিনি সফল হতে পারেননি। পরবর্তীতে গত ১৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের প্লানোতে অবস্থিত এপিক (EPIC) মসজিদের সামনে শুকরের মাথা ব্যবহার করে কোরআন অবমাননার একটি ভিডিও তিনি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন।সমাবেশ থেকে প্রেরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "পবিত্র কোরআনের ওপর যেকোনো আঘাত পুরো মুসলিম বিশ্বের ওপর আঘাতের শামিল। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং আমেরিকা, ইসরায়েল এবং ব্রিটেনের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি মনস্তাত্ত্বিক ও ধর্মীয় যুদ্ধের অংশ।"ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের নেতা সাইয়্যেদ আব্দুল মালিক আল-হুথি এক বিবৃতিতে এই ধৃষ্টতাকে 'পৃথিবীর পবিত্রতম জিনিসের বিরুদ্ধে অপরাধ' বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিশ্বজুড়ে মুসলিম দেশগুলোকে ইসরায়েলি ও মার্কিন পণ্য বয়কট করার এবং নিজেদের পবিত্রতার রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনের মজলুম জনগণের প্রতিও তাদের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। ইয়েমেনি জনগণের এই বিশাল প্রতিবাদে ভীত হয়ে অভিযুক্ত জেক ল্যাং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'X'-এ (সাবেক টুইটার) নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে পোস্ট করেছেন। তিনি ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি আকুতি জানিয়েছেন।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিমা বিশ্বে ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামবিদ্বেষ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে নতুন করে পশ্চিমা বিরোধী মনোভাব উসকে দিচ্ছে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত