প্রকাশের তারিখ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিদের প্রতি ৮৫% ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেও মুসলিমদের ক্ষেত্রে তা অনেক কম
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত "ট্রেন্ডস ইন প্রেজুডিস টুয়ার্ড জিউস অ্যান্ড মুসলিমস" শীর্ষক এক গবেষণায় মার্কিন নাগরিকদের ধর্মীয় ও জাতিগত দৃষ্টিভঙ্গির এক চাঞ্চল্যকর চিত্র ফুটে উঠেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে এসে ৮৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইহুদিদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করলেও, মুসলিমদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৬৫ শতাংশ। গত দুই বছরে মার্কিন রাজনীতিতে সেমিটিজম-বিরোধিতা এবং ইসলামোফোবিয়া চরমভাবে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণাটি ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে মার্কিন জনমতের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি ও মুসলিম—উভয় সম্প্রদায়ের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এখন দলীয় রাজনীতির ছাঁচে বন্দি।রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে 'অ্যান্টিসেমিটিজম':গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৭৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে 'অ্যান্টিসেমিটিজম' বা সেমিটিজম-বিরোধিতা তকমাটি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ৭১ শতাংশের মতে, ইসরায়েলের সমালোচনা দমন করতে এই শব্দটির অপব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ইসরায়েল ও জায়নবাদের সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। রিপাবলিকানদের ৪৪ শতাংশ ইসরায়েলি নীতির সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষ মনে করলেও ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২০ শতাংশ।গণমাধ্যমের ভূমিকা ও ইসলামোফোবিয়া:গবেষণায় দেখা গেছে, সংবাদ মাধ্যমের পছন্দ সরাসরি জনমতকে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে যারা 'ফক্স নিউজ' (Fox News) দেখেন, তাদের মধ্যে মুসলিম বিদ্বেষ সবচেয়ে বেশি। ফক্স নিউজ দর্শকদের মাত্র ৪২ শতাংশ মুসলিমদের প্রতি ইতিবাচক, যেখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ইন্টারনেট থেকে সংবাদ সংগ্রহকারীদের মধ্যে এই হার ৬৯ শতাংশ।সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্ব:মার্কিন সমাজে মুসলিমদের অবস্থান এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২২ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন মুসলিমরা মার্কিন সমাজকে "দুর্বল" করছে, যেখানে ইহুদিদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৮ শতাংশ। এমনকি রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও বিভাজন স্পষ্ট; ৩৬ শতাংশ ভোটার একজন মুসলিম প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ভোট দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেখানে ইহুদি প্রার্থীর ক্ষেত্রে এই অসম্মতি মাত্র ১৬ শতাংশ।গবেষকরা বলছেন, গাজা যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মার্কিন জনমত আরও বেশি খণ্ডিত ও কট্টরপন্থী হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং মিডিয়ার একপেশে উপস্থাপনাই মূলত এই ইসলামোফোবিয়া ও সামাজিক বিভাজনকে উসকে দিচ্ছে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত