প্রকাশের তারিখ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
বেঙ্গালুরুতে উচ্ছেদ অভিযান: খোলা আকাশের নিচে শত শত মুসলিম পরিবার
ভারতের সিলিকন ভ্যালি হিসেবে পরিচিত বেঙ্গালুরুতে এক আকস্মিক ও অমানবিক উচ্ছেদ অভিযানে গৃহহীন হয়ে পড়েছে কয়েকশ মুসলিম পরিবার। কনকনে শীতের ভোরে কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বসতবাড়ি। কয়েক দশক ধরে বসবাস করা এই মানুষগুলো এখন তাদের বৈধ পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বিচার দাবি করছেন।গত শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ভোর ৪টার দিকে বেঙ্গালুরু শহরের কোগিলু গ্রামের ফকির কলোনি ও ওয়াসিম লেআউটে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালায় গ্রেটার বেঙ্গালুরু কর্তৃপক্ষ। যখন বাসিন্দারা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখন প্রায় ১৫০ পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে চারটি বিশালাকার বুলডোজার নিয়ে বসতিগুলোতে হানা দেওয়া হয়। কোনো প্রকার মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ না দিয়েই একের পর এক ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।কর্তৃপক্ষের এই অভিযানে প্রায় ৪০০টি বাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে, যার ফলে আনুমানিক ৩,০০০ মানুষ উচ্ছেদ হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে বড় একটি অংশ নারী, শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তি। উচ্ছেদের পর দুই দিন পার হয়ে গেলেও কোনো ত্রাণ বা বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেনি প্রশাসন। হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর সময় কাটাচ্ছেন বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো।উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের অধিকাংশ ঐতিহাসিক 'ফকির' সম্প্রদায়ের সদস্য। তারা জানান, গত ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে তারা সেখানে বসবাস করছেন। তাদের কাছে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং রেশন কার্ডের মতো সব ধরণের বৈধ সরকারি নথিপত্র রয়েছে। এমনকি তারা নিয়মিত নির্বাচনে ভোটও দিয়ে আসছেন। জনৈক আমির বলেন, "আমি এখানেই বড় হয়েছি, ১২ বছর আগে বিয়েও করেছি। তিন বছর ধরে আমাদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছিল, আর গত শুক্রবার হঠাৎ বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পরদিন আমাদের সব শেষ করে দেওয়া হলো।"গ্রেটার বেঙ্গালুরু কর্তৃপক্ষের দাবি, একটি সরকারি উর্দু স্কুলের পাশের জলাশয় দখল করে অবৈধভাবে এসব বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল। তাদের দাবি অনুযায়ী, যারা এখানে থাকতেন তারা মূলত পার্শ্ববর্তী অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা থেকে আসা পরিযায়ী। তবে স্থানীয়রা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী বসতি উচ্ছেদের আগে আইনি নোটিশ দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও প্রশাসন তা মানেনি।শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উচ্ছেদস্থলে উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি। বর্তমানে কেবল ধ্বংসস্তূপ আর হারিয়ে যাওয়া শৈশবের হাহাকার পড়ে আছে বেঙ্গালুরুর এই প্রান্তে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত