প্রকাশের তারিখ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় তুর্কি সংস্থার বিশ্বব্যাপী প্রচারণা: পাশে দাঁড়াচ্ছে নওমুসলিমদের
তুরস্কের বিখ্যাত দাতব্য সংস্থা 'কিম ওয়াকফ' (KİM Vakfı), যা 'সেন্টার ফর ক্রস কালচারাল কমিউনিকেশন' নামেও পরিচিত, ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতি মোকাবিলায় এক বিশাল বৈশ্বিক প্রচারণা শুরু করেছে। প্রতি বছর ইস্তাম্বুলে আগত লাখ লাখ পর্যটকদের কাছে ইসলামের সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং নতুন মুসলিমদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও সামাজিক সহায়তা প্রদানই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। জনপ্রিয় ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম 'লঞ্চগুড'-এর মাধ্যমে তারা এই তহবিল সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।ভুল ধারণা ভাঙার অনন্য প্রচেষ্টাতুরস্ক, বিশেষ করে ইস্তাম্বুল, প্রতি বছর কোটি কোটি আন্তর্জাতিক পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত থাকে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা থেকে আসা অনেক পর্যটকের জন্য এটাই হয় ইসলামি সংস্কৃতি ও মুসলিমদের সাথে প্রথম সরাসরি মেলামেশার সুযোগ। কিম ওয়াকফ এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে থাকা ভুল ধারণাগুলো দূর করতে কাজ করছে। তারা কোনো বিতর্ক নয়, বরং সরাসরি কথোপকথন, সাংস্কৃতিক সফর এবং তথ্যবহুল উপকরণের মাধ্যমে ইসলামের বিশ্বাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরছে। সংস্থাটি জানায়, প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার অমুসলিম পর্যটকের সাথে তারা সরাসরি যুক্ত হয়।নওমুসলিমদের জন্য বিশেষ সেবা: 'নিউ মুসলিম কেয়ার'এই উদ্যোগের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো 'নিউ মুসলিম কেয়ার' প্রোগ্রাম। অনেক পর্যটক স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে আলোচনার পর ইসলাম গ্রহণ করেন। তাদের জন্য এই প্রোগ্রামটি মেন্টরিং, কাঠামোগত শিক্ষা এবং সামাজিক সংহতিতে সহায়তা করে। সংস্থাটির মহাপরিচালক ওবায়দুল্লাহ তানরিওভার জানান, প্রতি মাসে ডজনেরও বেশি মানুষ তাদের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করছেন। তারা যেন পরবর্তী জীবনে একাকীত্ব বা সংকটে না পড়েন, সেজন্য এই বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা।গাজা সংকট ও ইসলামের প্রতি বাড়তি আগ্রহস্বেচ্ছাসেবক ফাতিহ ওজকান জানান, ৭ অক্টোবরের পর থেকে পশ্চিমা পর্যটকদের মধ্যে ইসলামের প্রতি আগ্রহ নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। গাজায় ফিলিস্তিনিদের অদম্য ধৈর্য ও ঈমান দেখে অনেক পর্যটক বুঝতে চাচ্ছেন, কোন শক্তি তাদের এই কঠিন সময়েও টিকিয়ে রেখেছে। এর ফলে ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।বিশ্বব্যাপী প্রভাব ও লক্ষ্যকিম ওয়াকফ-এর সভাপতি মোস্তফা কারাকা বলেন, "ইসলামভীতি মূলত ভুল তথ্য এবং অজ্ঞতা থেকে জন্ম নেয়। আমাদের লক্ষ্য হলো স্টিরিওটাইপ ভেঙে শিক্ষার মাধ্যমে সেই শূন্যস্থান পূরণ করা।" গত ১৬ বছর ধরে সংস্থাটি শিক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং সামাজিক প্রসারে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এই নতুন বৈশ্বিক প্রচারণা কেবল তুরস্কের অভ্যন্তরেই নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত