প্রকাশের তারিখ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
আফগানিস্তানের গোয়েন্দা তথ্যে পাকিস্তানে আইএস জঙ্গি গ্রেপ্তার: জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ
আফগানিস্তানের দেওয়া সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই পাকিস্তানে ইসলামিক স্টেট (আইএস-কে) সদস্যদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসলামিক আমিরাতের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। তিনি জানান, ডুরান্ড লাইনের ওপারে জঙ্গিদের আস্তানা নিয়ে কাবুল দীর্ঘ সময় ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। সম্প্রতি তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এক শীর্ষ জঙ্গি ধরা পড়ার পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এলো।আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ডুরান্ড লাইনের ওপারে (পাকিস্তান সীমান্ত এলাকা) আইসিসের গোপন আস্তানাগুলোর অবস্থান সম্পর্কে আফগানিস্তান আগেই তথ্য সংগ্রহ করেছিল। এই তথ্যগুলো বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক বৈঠকে শেয়ার করা হয়েছে এবং আইসিসের এই ‘অশুভ তৎপরতা’ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।মুজাহিদ বলেন, "আমরা আইসিসের আস্তানাগুলো সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করেছি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছি। সাম্প্রতিক সময়ে যেসব আইএস সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছে, তা আমাদের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যেরই প্রতিফলন।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো দেশের বিরুদ্ধেই যেন আইসিসকে ব্যবহার করা না হয় এবং এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে লালন-পালন করার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।এদিকে, 'আল-মারসাদ' মিডিয়ার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আইএস-কে সদস্য মোহাম্মদ গোরান ওরফে 'ইয়াহইয়া' পাকিস্তানের বালুচিস্তানে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, গোরান তুরস্ক থেকে ইরান হয়ে বালুচিস্তানে যায় এবং সেখানে ছয় মাস সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে।তুর্কি সংবাদমাধ্যমের দাবি, গ্রেপ্তারের আগে মোহাম্মদ গোরান আফগানিস্তান, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। এই ঘটনাটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, যেখানে আফগানিস্তান বারবার অভিযোগ করছে যে তাদের প্রতিবেশী দেশের মাটিতে জঙ্গিরা নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত