প্রকাশের তারিখ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
গোপালগঞ্জে ‘গরুর মাংস বহন’ সন্দেহে মুসলিম যুবককে খুঁটিতে বেঁধে গণপিটুনি
ভারতের বিহার রাজ্যের গোপালগঞ্জ জেলায় গো-মাংস বহনের সন্দেহে আহমেদ আজাদ নামে এক মুসলিম যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে নির্মমভাবে প্রহার করেছে একদল উগ্রবাদী। শনিবারের এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং আইন হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতায় স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের নগর থানার অন্তর্গত মাঠিয়া এলাকায়। ভুক্তভোগী আহমেদ আজাদ প্রতিবেশী সিওয়ান জেলার বরহারিয়া থানার বাসিন্দা। তিনি মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর একদল সদস্য তাকে গতিরোধ করে। কোনো আইনি কর্তৃত্ব ছাড়াই তারা আজাদের তল্লাশি শুরু করে এবং দাবি করে যে তার কাছে থাকা একটি বক্সে নিষিদ্ধ মাংস রয়েছে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে আজাদকে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং উপস্থিত জনতা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছে। ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, "আমরা একে নিষিদ্ধ মাংসসহ ধরেছি, পাশে মন্দির আছে, ওর উদ্দেশ্য খারাপ ছিল।" এমনকি কোনো প্রমাণ ছাড়াই তার মোটরসাইকেলটি চুরির বলে দাবি করা হয় সেখানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ আসার আগে দীর্ঘ সময় ধরে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।এই ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। একজন প্রবীণ ব্যক্তি জানান, "আজ আহমেদ আজাদ আক্রান্ত হয়েছেন, কাল যে কেউ হতে পারে। রাস্তার লোক এখন পুলিশ ও বিচারকের ভূমিকা পালন করছে।" এমনকি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই এই অমানবিক কাজের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, অপরাধ করলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে, কিন্তু এভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া লজ্জাজনক।পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আজাদকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং মাংস ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করে। পরবর্তীতে তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে যারা প্রকাশ্যে দিবালোকে একজন মানুষকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করল, তাদের বিরুদ্ধে কেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।পাটনাভিত্তিক একজন মানবাধিকার কর্মী বলেন, "এটি ঘৃণা থেকে উদ্ভূত সাজা, আইন প্রয়োগ নয়। প্রশাসনের নীরবতা উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোকে আরও দুঃসাহস জোগাচ্ছে।" সাধারণ মানুষ এখন এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন যাতে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত