প্রকাশের তারিখ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
ভারতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও গণপিটুনি নিয়ে সরব মাওলানা মাদানি: সরকারের ‘দ্বিমুখী নীতি’র তীব্র সমালোচনা
ভারতে ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, গির্জায় হামলা এবং মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়ের ওপর বিচারবহির্ভূত গণপিটুনির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি। তিনি বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক সহিংসতার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ভারতের অভ্যন্তরে ঘটে চলা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের রহস্যজনক নীরবতাকে ‘দ্বিমুখী আচরণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।জমিয়ত প্রধান মাওলানা আরশাদ মাদানি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে ভারতের বর্তমান সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও ঘৃণা ভারতকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে।বাংলাদেশে সহিংসতা ও ইসলামের অবস্থানবাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক অপ্রীতিকর ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মাদানি বলেন, "বাংলাদেশে যা ঘটেছে তা কেবল জঘন্যই নয়, বরং নিষ্ঠুরতার চরম সীমা। যারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে এসব করেছে, তারা আসলে ইসলামের শিক্ষার অবমাননা করেছে। ইসলাম কখনো এমন বর্বরতা সমর্থন করে না এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।"ভারতে গণপিটুনির উদ্বেগজনক চিত্রবিবৃতিতে তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ভয়াবহ ঘটনার কথা উল্লেখ করেন:বিহার: নালন্দায় নাম এবং ধর্ম পরিচয় জিজ্ঞেস করে এক মুসলিম কাপড় বিক্রেতাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।কেরালা: ছত্তিশগড়ের এক দলিত যুবককে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।ওড়িশা: পশ্চিমবঙ্গ থেকে কাজ করতে যাওয়া তিন মুসলিম শ্রমিকের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।বড়দিন পালন বাধাগ্রস্ত: বড়দিনের উৎসবে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।সরকারের নীরবতা ও দ্বিমুখী নীতিমাওলানা মাদানি অভিযোগ করেন যে, ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে সরব থাকলেও দেশের ভেতরের গণপিটুনি নিয়ে চুপ। তিনি বলেন, "সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো, সরকার বা মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যই এসব সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতিও দেননি। এটি সেই ভারত নয় যার স্বপ্ন মহাত্মা গান্ধী বা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ দেখেছিলেন।"তিনি অবিলম্বে এই ‘ঘৃণার সংস্কৃতি’ বন্ধ করে সংবিধান প্রদত্ত নাগরিক অধিকার ও আইন রক্ষা করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত