প্রকাশের তারিখ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬
গাইবান্ধায় জামায়াতসহ আট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল: আইনি ত্রুটি ও যোগ্যতার ঘাটতি প্রধান কারণ
গাইবান্ধা-১ এবং গাইবান্ধা-২ আসনের আসন্ন নির্বাচনে আটজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার নেতৃত্বে যাচাই-বাছাই শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মনোনয়ন বাতিলের পেছনে চাকরি, দলীয় মনোনয়নপত্রে ত্রুটি, স্বাক্ষরজনিত সমস্যা ও সমর্থনকারীর তালিকা বৈধ না থাকাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) ও গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের মোট ১৮ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে ৮ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিস এবং একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।গাইবান্ধা-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. মাজেদুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল হয় সরকারি বেতনপ্রাপ্ত শিক্ষক হওয়ায়। নির্বাচন আইন অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে থেকে প্রার্থী হওয়া নিষিদ্ধ। একই আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রমজান আলী এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মাহফুজুল হক সরদারের মনোনয়নপত্র দলীয় স্বীকৃতিতে আনুষ্ঠানিক ত্রুটি থাকায় বাতিল করা হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. সালমা আক্তার এবং মো. মোস্তফা মহসিনের মনোনয়নও সমর্থনকারী ভোটার তালিকায় অসঙ্গতির কারণে বাতিল হয়।অন্যদিকে, গাইবান্ধা-২ আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মিহির কুমার ঘোষ এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. আব্দুল মাজেদের মনোনয়ন দলীয় কাগজপত্রের ত্রুটির কারণে অবৈধ ঘোষিত হয়। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী একেএম গোলাম আযমের মনোনয়ন বাতিল হয় হলফনামায় তার নিজস্ব স্বাক্ষর না থাকায়।রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন আইন ও বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো আইনি পরামর্শ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত