প্রকাশের তারিখ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন গাজার ১০ ফিলিস্তিনি বন্দী
ইসরায়েল সোমবার গাজা উপত্যকা থেকে আটক ১০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (ICRC) সহায়তায় তাদের কেরেম শালোম (কারম আবু সালেম) সীমান্ত ক্রসিং থেকে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের শহীদ আল-আকসা হাসপাতালে নেওয়া হয়। মুক্তিপ্রাপ্তদের পরিবারগুলোর সঙ্গে পুনর্মিলনও নিশ্চিত করা হয়েছে।আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি এক বিবৃতিতে জানায়, সোমবার ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ১০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে তারা দক্ষিণ গাজার কেরেম শালোম সীমান্ত ক্রসিং থেকে দেইর আল-বালাহ শহরের শহীদ আল-আকসা হাসপাতালে নিরাপদে স্থানান্তর করেছে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রেডক্রসের একটি বিশেষ দল মুক্তিপ্রাপ্তদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়া সহজ করেছে।তবে বিবৃতিতে মুক্তিপ্রাপ্তদের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে মুক্তি পাওয়া অনেক সাবেক বন্দি জানিয়েছেন, ইসরায়েলি কারাগারে আটক অবস্থায় বহু ফিলিস্তিনি বন্দি তীব্র শারীরিক নির্যাতন, অপুষ্টি ও গুরুতর আঘাতের শিকার হয়েছেন।এই মুক্তি ইসরায়েলের পক্ষ থেকে গাজা উপত্যকার বন্দিদের মাঝে মাঝে মুক্তির ধারাবাহিকতার অংশ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নথিভুক্ত সাক্ষ্য অনুযায়ী, এসব বন্দিকে দীর্ঘ মাস ধরে এমন কারাগারে আটক রাখা হয়েছে, যেখানে ন্যূনতম মানবিক মানদণ্ডও মানা হয় না এবং সেখানে নিয়মিত নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি জানিয়েছে, তারা অক্টোবর ২০২৩ থেকে ইসরায়েলি আটক কেন্দ্রগুলোতে বন্দিদের কাছে সরাসরি পৌঁছাতে পারেনি। সংস্থাটি সব বন্দির অবস্থান ও ভাগ্য সম্পর্কে তথ্য জানানো এবং তাদের কাছে মানবিক সংস্থাগুলোর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।রেডক্রস আরও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে বন্দিদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা, গ্রহণযোগ্য আটক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক।বিবৃতিতে বলা হয়, বহু ফিলিস্তিনি পরিবার তাদের আটক স্বজনদের কোনো খোঁজের অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। রেডক্রস জানিয়েছে, তারা সব বন্দির কাছে পুনরায় নিয়মিত পরিদর্শন শুরু করতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।এর আগে, গত বছরের ১৩ অক্টোবর ইসরায়েল গাজা থেকে প্রায় ১,৭০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়। এই মুক্তি হামাসের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় চুক্তির অংশ ছিল।চুক্তিটি ১০ অক্টোবর কার্যকর হয়, যা মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তত্ত্বাবধানে গৃহীত বহু-পর্যায়ের পরিকল্পনার অংশ।বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে এখনও ১০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছে, যাদের মধ্যে শিশু ও নারীও অন্তর্ভুক্ত। ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, এসব বন্দি নির্যাতন, অনাহার ও চিকিৎসা অবহেলার শিকার হচ্ছেন, যা বহু বন্দির মৃত্যুর কারণ হয়েছে।উল্লেখ্য, এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে গাজায় প্রায় দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি গণহত্যার অবসান ঘটে। ৮ অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েলি হামলায় ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন—যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। জাতিসংঘের হিসাবে, গাজা পুনর্গঠনে প্রয়োজন হবে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত