প্রকাশের তারিখ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
দিল্লিতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্র: মসজিদের সম্পত্তি ভাঙার অভিযোগ ওয়াইসির
ভারতের রাজধানী দিল্লির তুর্কম্যান গেট সংলগ্ন রামলীলা ময়দান এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি অভিযোগ করেছেন, ১৯৭০ সালের গ্যাজেট অনুযায়ী নিবন্ধিত একটি মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তি বেআইনিভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।মঙ্গলবার ও বুধবারের মধ্যবর্তী রাতে দিল্লির ফয়েজ-ই-এলাহি মসজিদের কাছে পরিচালিত এক উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তুর্কম্যান গেট এলাকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'মসজিদ ভাঙা হচ্ছে' এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এই সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে এক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি দাবি করেন, "রাত ১টা ৩০ মিনিটে তুর্কম্যান গেটের কাছে একটি মসজিদের সম্পত্তি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৯৭০ সালের সরকারি গ্যাজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এটি একটি ওয়াকফ সম্পত্তি।"ওয়াইসি অভিযোগ করেন যে, দিল্লি হাইকোর্ট এই সম্পত্তির মালিকানা নির্ধারণে ভুল আদেশ দিয়েছেন। তাঁর মতে, হাইকোর্টের এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার ছিল না। একইসঙ্গে তিনি দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডেরও সমালোচনা করেন সঠিক সময়ে রিভিউ পিটিশন দাখিল না করার জন্য। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, এই বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যাওয়া হবে।পাস হওয়া নতুন ওয়াকফ (সংশোধনী) আইনকে ‘কালো আইন’ হিসেবে অভিহিত করে ওয়েইসি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকার একনাথ শিন্ডে, অজিত পাওয়ার এবং চন্দ্রবাবু নাইডুর সমর্থনে এই আইন তৈরি করেছে। এই আইনের মাধ্যমে মুসলিমদের ধর্মীয় সম্পত্তি ও কবরস্থান কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। দিল্লিতে যা ঘটেছে তা কেবল শুরু মাত্র।"তিনি আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে ভোটারদের এই আইনের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। ওয়েইসি আরও বলেন যে, ভারতীয় সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার দিয়েছে এবং তিনি কোনোভাবেই এই মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে আপস করবেন না।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত