প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের: কুর্দি বাহিনীকে শহর ছাড়ার আল্টিমেটাম
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে এবং বেসামরিক মানুষের জানমাল রক্ষায় সাময়িক অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করেছে সিরীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (SDF/QSD)-এর সশস্ত্র সদস্যদের শহর ত্যাগের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (আল্টিমেটাম) বেঁধে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ভোর থেকে এই নির্দেশ কার্যকর করা শুরু হয়।সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার ভোর ৩টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত আলেপ্পোর তিনটি প্রধান এলাকা— শেখ মাকসুদ, আশরাফিয়া এবং বনি জাইদ-এ সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এড়ানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী 'এসডিএফ' (যাকে তুরস্ক ও সিরিয়ার কিছু অংশ পিকেকে/ওয়াইপিজি-র শাখা হিসেবে বিবেচনা করে) সদস্যদের তাদের হালকা ব্যক্তিগত অস্ত্রসহ সকাল ৯টার মধ্যে শহর ত্যাগ করতে হবে। সিরীয় সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, সশস্ত্র সদস্যরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বের হয়ে গেলে তাদের উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার নিরাপদ অঞ্চলে পৌঁছানোর জন্য সুরক্ষিত পথ (সেফ প্যাসেজ) নিশ্চিত করা হবে।অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর অপারেশনাল উইং বর্তমানে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সমন্বয় করছে। সরকারি ভাষ্যমতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আলেপ্পোয় পুনরায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাস্তুচ্যুত সাধারণ মানুষকে তাদের নিজ ঘরে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া হবে।গত মঙ্গলবার থেকে আলেপ্পোর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এসডিএফ-এর হামলার ফলে অন্তত ৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৫৫ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আলেপ্পো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মুনির আল-মোহাম্মদ। সশস্ত্র গোষ্ঠীটি শহরের শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রগুলোতেও হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সিরীয় বাহিনী আশরাফিয়া এলাকার অধিকাংশ স্থান নিয়ন্ত্রণে নিলেও শেখ মাকসুদ এলাকায় উত্তেজনা বজায় ছিল।উল্লেখ্য যে, গত ১০ মার্চ ২০২৫-এ প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এবং এসডিএফ প্রধান মাজলুম আবদির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে টানাপোড়েন চলছে। ওই চুক্তিতে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার সিভিল ও সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অধীনে আনা এবং তেল-গ্যাস ক্ষেত্রগুলো উন্মুক্ত করার কথা থাকলেও এসডিএফ তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত