প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
বিশিষ্ট ইয়েমেনি আলেম ও শাফেয়ি মাযহাবের মুফতি হাবিব উমর আল-জিলানির ইন্তেকাল
বিশিষ্ট ইয়েমেনি দাঈ ও শাফেয়ি মাযহাবের খ্যাতিমান আলেম হাবিব উমর হামিদ আল-জিলানি ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৬ বছর। জাকার্তা অভিমুখে একটি ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক সফরে যাওয়ার পথে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় ও শিক্ষাঙ্গনে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়েছে।ইয়েমেনের অন্যতম প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শাফেয়ি মাযহাবের মুফতি হিসেবে পরিচিত হাবিব উমর হামিদ আল-জিলানি শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) ইন্তেকাল করেন। ইয়েমেনি সরকারি বার্তা সংস্থা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বরাতে জানা গেছে, তিনি জাকার্তায় একটি ধর্মীয় ও দাওয়াহ সফরে যাওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন।ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের সদস্য ও হাদরামাউতের গভর্নর সালেম আল-খানবাশি এক বিবৃতিতে জানান, আল-জিলানি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন ইসলামের দাওয়াহ ও জ্ঞান প্রচারের কাজে। তিনি বলেন, “তিনি ছিলেন এক অনন্য আলেম ও দাঈ, যিনি নবুয়তের আদর্শ অনুসরণ করে শিক্ষা ও দাওয়াহ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।”তিনি আরও বলেন, আল-জিলানির প্রভাব শুধু ইয়েমেনেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং হাদরামাউতসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর ছাত্র ও অনুসারীদের মাঝে গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন। তাঁর মৃত্যু ইয়েমেন ও মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করা হয়।মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র আলেম আলী জুমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা দিয়ে বলেন, “আমরা সুন্নি তাসাওউফ, দাওয়াহ ও জ্ঞানের জগতের এক মহান ব্যক্তিত্বকে হারালাম। তিনি ধর্মীয় শিক্ষা ও দাওয়াহর উদ্দেশ্যে সফরে থাকা অবস্থায় আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেলেন।”মিশরের ওয়াকফ মন্ত্রী উসামা আল-আজহারিও তাঁকে “শিক্ষকসুলভ আলেম ও বিশিষ্ট ফকিহ” হিসেবে বর্ণনা করে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আল-জিলানি ছিলেন মক্কায় শাফেয়ি মাযহাবের মুফতি হিসেবে পরিচিত একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।তুরস্কের ফাতিহ সুলতান মুহাম্মদ ওয়াকফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হামদি আরসলান জানান, আল-জিলানি ছিলেন আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআহর পথের অনুসারী, জ্ঞান ও আমলের সমন্বয়কারী এবং দাওয়াহ ও আত্মশুদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী একজন আলেম। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিনয়ী, নীরব ও মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি থাকা একজন ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।মিডিয়া সূত্রে জানা যায়, হাবিব উমর হামিদ আল-জিলানি ১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সুফি পরিবারে বেড়ে ওঠেন। শৈশব থেকেই তিনি ধর্মীয় শিক্ষায় পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং বিশেষ করে শাফেয়ি ফিকহে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন।যৌবনে তিনি মক্কায় চলে যান এবং সেখানে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ ও প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। মক্কায় শাফেয়ি মাযহাবের মুফতি হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।তিনি আরব উপদ্বীপের বাইরে বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকায় ব্যাপক দাওয়াহ সফর করেছেন। ইন্দোনেশিয়া ও কেনিয়ায় তাঁর দাওয়াহ কার্যক্রম ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ইয়েমেন, সৌদি আরব ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে তাঁর ধর্মীয় সম্পর্ক ও শিক্ষাগত যোগাযোগ বিস্তৃত ছিল।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত