প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
মিয়ানমারে প্রহসনের নির্বাচন: সামরিক সমর্থিত দলের জয় নিশ্চিত, প্রত্যাখ্যান বিশ্ব সম্প্রদায়ের
ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ, দমন-পীড়ন আর বিরোধী দলশূন্য মিয়ানমারে আজ শেষ হয়েছে সাধারণ নির্বাচনের তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপ। সামরিক অভ্যুত্থানের প্রায় পাঁচ বছর পর আয়োজিত এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের পথে ফেরার ধাপ হিসেবে জান্তা সরকার দাবি করলেও বিশ্বজুড়ে এটি ‘প্রহসন’ হিসেবে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছে। প্রধান বিরোধী দল অং সান সু চির এনএলডি-কে নিষিদ্ধ করায় জান্তা সমর্থিত ইউএসডিপি (USDP) দলটির নিরঙ্কুশ জয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।মিয়ানমারে রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয়সহ ৬০টি জনপদে চূড়ান্ত দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্বাচনের এই পর্যায়ে দেশটির সেনাবাহিনী সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) বড় ব্যবধানে জয়লাভ করতে যাচ্ছে। এর আগেই নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে, নিম্ন কক্ষের ২০৯টি আসনের মধ্যে ১৯৩টি এবং উচ্চ কক্ষের ৭৮টি আসনের মধ্যে ৫২টিতে জয় নিশ্চিত করেছে সামরিকপন্থী এই দলটি।সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত ১৬৬টি আসনসহ বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০টি আসন নিজেদের কব্জায় নিয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৯৪ আসনের চেয়ে অনেক বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মার্চে নতুন পার্লামেন্ট অধিবেশন বসবে এবং এপ্রিল থেকে বর্তমান জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।নির্বাচন চলাকালেই একে ‘প্রহসনমূলক’ ও ‘অবৈধ’ বলে অভিহিত করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুস এক বার্তায় বলেন, “একটি অবৈধ নির্বাচন থেকে কেবল একটি অবৈধ সরকারই জন্ম নিতে পারে। বিশ্বকে অবশ্যই এই জালিয়াতি প্রত্যাখ্যান করতে হবে।”অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান (ASEAN) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেবে না। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান জানিয়েছেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অবাধ পরিবেশ না থাকায় আসিয়ান কোনো পর্যবেক্ষক পাঠায়নি এবং ভোটের ফলাফলকে প্রত্যয়ন (Certify) করবে না।২০২০ সালের নির্বাচনে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পড়লেও এবারের আগের দুই ধাপে মাত্র ৫৫ শতাংশ ভোটার উপস্থিত লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা বন্ধ করতে নতুন আইন করা হয়েছে, যার আওতায় লিফলেট বিলি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরূপ মন্তব্যের জন্য অন্তত ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চিকে উৎখাত করার পর থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত এবং ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অন্যান্য সংস্থার মতে, কারাবন্দি সু চির দলকে নিষিদ্ধ করে এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে এই নির্বাচনের মাধ্যমে সেনাবাহিনী মূলত ‘বেসামরিক পোশাকে’ নিজেদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার চেষ্টা করছে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত