প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
ইমামদের জন্য ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প: জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার
দেশের ইমাম ও ধর্মীয় শিক্ষার কল্যাণে ১০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। একইসঙ্গে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে 'জুলাই সনদ' ও নতুন সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে 'হ্যাঁ' ভোট দিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারকগণ।রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ধর্ম মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জাতীয় ইমাম সম্মেলনে’ এসব গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেওয়া হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।ধর্ম উপদেষ্টা জানান, ইমামদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আগামী ২৮ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধে ইমামদের ভূমিকা অনস্বীকার্য, তাই তাদের জীবনমান উন্নয়ন সরকারের অগ্রাধিকার।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে ড. খালিদ হোসেন বলেন, “দেশকে ইতিবাচকভাবে পাল্টাতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন।” তিনি জুলাই সনদ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “একটি পক্ষ মিথ্যা ছড়াচ্ছে যে জুলাই সনদে ‘বিসমিল্লাহ’ নেই, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দেশ সংস্কারে এই সনদ একটি মাইলফলক।”সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “গোলাপি ব্যালটেই লুকিয়ে আছে দেশের ভবিষ্যৎ। বিগত দিনে প্রধানমন্ত্রীর অতি-ক্ষমতার কারণে দেশে একনায়কতন্ত্র বা ‘ফেরাউনের শাসন’ তৈরি হয়েছিল। আমরা যদি গুম, খুন আর নৈরাজ্যের অন্ধকার যুগে ফিরতে না চাই, তবে ১২ ফেব্রুয়ারি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) অতীতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে রাজনৈতিক দলগুলো ভবিষ্যতে জবাবদিহিতার মধ্যে থাকবে এবং দুর্নীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।সম্মেলনে উপস্থিত হাজারো ইমামকে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য দিয়ে ভোটকেন্দ্রে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত