প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষার নতুন দিগন্ত: ১২ স্কুলে ই-লার্নিং কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ী জনপদে আধুনিক শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। মঙ্গলবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে তিন পার্বত্য জেলার ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ই-লার্নিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এখন থেকে পাহাড়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের শিক্ষা উপকরণ ও দক্ষ শিক্ষকদের সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ পাবে।মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার ১২টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধান উপদেষ্টা। উদ্বোধনী পর্বে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আধুনিক বিশ্বে ইন্টারনেট একটি মৌলিক অধিকার হলেও পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘকাল এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। এজন্য তিনি সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বৈষম্য ঘুচিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন।প্রাথমিক পর্যায়ে আজ ৩টি প্রাথমিক ও ৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই তিন পার্বত্য জেলার নির্বাচিত ১৪৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ই-লার্নিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর ফলে পাহাড়ের দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের আর দক্ষ শিক্ষকের সংকটে পড়তে হবে না। তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি গুণী শিক্ষকদের ক্লাস করার সুযোগ পাবে।প্রফেসর ইউনূস তার বক্তব্যে বলেন, "পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয় হলেও যোগাযোগের অভাবে সেখানে ভালো শিক্ষকরা যেতে চান না। কিন্তু ইন্টারনেট এই বাধা দূর করে দিয়েছে। এখন থেকে শিক্ষক যেখানেই থাকুন, তোমরা তাদের কাছে পড়তে পারবে। শুধু শিক্ষা নয়, ইন্টারনেটের মাধ্যমে তোমরা স্বাস্থ্যসেবা ও বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া নানা তথ্যও অনায়াসে সংগ্রহ করতে পারবে।" তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, দেশের অন্যান্য নাগরিকের মতো পাহাড়ের প্রতিটি শিশুও সমান অধিকার ও সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, "আজকের এই দিনটি পার্বত্য অঞ্চলের জন্য এক নতুন দিগন্তের সূচনা। সরকার পার্বত্যবাসীকে পিছিয়ে রাখতে চায় না। আমরা চাই পাহাড়ের সাথে পুরো বাংলাদেশ ও বিশ্বের সংযোগ সুদৃঢ় হোক।" অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।উদ্বোধন শেষে প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় শিক্ষার্থীরা এমন আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতির জন্য আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত