প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারতের সম্ভলে মাদরাসা ও বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন; জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক
ভারতের উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলায় একটি ঐতিহাসিক মাদরাসা এবং সংলগ্ন বেশ কিছু বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সরকারি জমি দখলের অভিযোগে পরিচালিত এই অভিযানে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যথাযথ পুনর্বাসন বা আলোচনার সুযোগ না দিয়েই এই উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়েছে।উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলার নরোলি শহরে গত বৃহস্পতিবার এক বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালায় স্থানীয় প্রশাসন। ‘দারুল উলুম’ নামক একটি মাদরাসা এবং এর আশেপাশে গড়ে ওঠা অন্তত ৮-১০টি বসতবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের দাবি, মাদরাসাটি এবং সংলগ্ন ঘরগুলো সরকারি খাস জমিতে (কম্পোস্ট পিট ও জনপথের জন্য নির্ধারিত) অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল।সাব-ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) আশুতোষ তিওয়ারি সাংবাদিকদের জানান, রাজস্ব রেকর্ড অনুযায়ী ১৬৩৫ এবং ১৬৩৬ নম্বর দাগের জমিটি সরকারি কাজে বরাদ্দ। তিনি বলেন, “অবৈধ দখলদারদের দুবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনাগুলো সরিয়ে না নেওয়ায় আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।” এই অভিযানে এসডিএম-এর পাশাপাশি ডেপুটি তহসিলদার এবং পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ৫টি থানার পুলিশ ও পিএসি (Provincial Armed Constabulary) মোতায়েন করে পুরো এলাকাকে ‘পুলিশ ছাউনিতে’ রূপান্তর করা হয়।উচ্ছেদ হওয়া মাদরাসাটি এলাকার দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার একমাত্র আশ্রয়স্থল ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আব্দুল হামিদ নামে এক অভিভাবক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, বড় স্কুলে পড়ানোর সামর্থ্য নেই। মাদরাসাটি আমাদের সন্তানদের আলো দিচ্ছিল, এখন তারা কোথায় যাবে?” নিজের ঘর হারানো শাবানা বেগম বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে এখানে থাকছি। হঠাৎ বলা হলো আমাদের বাড়ি অবৈধ। খোলা আকাশের নিচে আমাদের এখন কোথায় যাওয়ার জায়গা নেই।”নরোলি পঞ্চায়েত চেয়ারম্যান বিট্টন মালিক প্রশাসনের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে জানান, তাকে এই অভিযানের বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। তিনি মনে করেন, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করা উচিত ছিল।সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরপ্রদেশে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তবে মানবাধিকার কর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আইনজীবী সমীর খান বলেন, “উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় যথাযথ আইনি বিধি অনুসরণ করা এবং ধর্মীয় স্পর্শকাতর স্থাপনার ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা প্রয়োজন ছিল যাতে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্যের ধারণা তৈরি না হয়।”বর্তমানে সম্ভলের ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় ধর্মীয় নেতা মাওলানা ফারুক আহমদ বলেন, “মাদরাসা কেবল একটি দালান নয়, এটি বিশ্বাস ও শিক্ষার কেন্দ্র। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা যেত। আমরা কেবল ন্যায়বিচার ও শান্তি চাই।”
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত