প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬
জার্মানিতে ১৬ বছরের মুসলিম কিশোরীর ওপর বর্বর হামলা: হিজাব টেনে খোলার চেষ্টা
ইউরোপের প্রাণকেন্দ্র জার্মানিতে ধর্মীয় পোশাক ও পরিচয়ের কারণে আবারও নিগ্রহের শিকার হয়েছেন এক মুসলিম কিশোরী। রাজধানী বার্লিনের রাইনিকেনডর্ফ এলাকায় দিনের আলোতে এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরীর হিজাব টেনে খোলার চেষ্টা করে এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করে। এই ঘটনায় জার্মানিতে বসবাসরত মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তার প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।বার্লিন পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৩ মার্চ মঙ্গলবার দুপুর ১২:১৫ মিনিটের দিকে রাইনিকেনডর্ফ জেলার মার্কিশেস ফিয়ার্টেল নামক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্যমতে, হামলাকারী ব্যক্তি প্রথমে ওই কিশোরীর হিজাব লক্ষ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শী না থাকলেও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বার্লিনার মর্গেনপোস্ট পুলিশের বরাতে জানিয়েছে, হামলাকারী তার বক্তব্যে মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করেছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তির দাবি বা পরিচয় এখনো অস্পষ্ট থাকলেও তার কর্মকাণ্ড ছিল সরাসরি ‘ইসলামোফোবিয়া’ দ্বারা প্রভাবিত।ঘটনার দিন ড্যানেনওয়াল্ডার ওয়েগ নামক সড়কের ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ১৬ বছরের ওই কিশোরী অতর্কিত আক্রমণের শিকার হয়। হামলাকারী কেবল মৌখিক গালিগালাজ করেই ক্ষান্ত হয়নি, সে সজোরে কিশোরীর হিজাব ধরে টান দেয় এবং তা খুলে ফেলার চেষ্টা করে।এই ধস্তাধস্তির সময় কিশোরীটি শ্বাসরোধ হওয়ার উপক্রম হয় এবং তার গলার অংশে তীব্র আঘাত পায়। শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি কিশোরীটি চরম মানসিক ট্রমার মধ্যে পড়ে। হামলার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে কিশোরীটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বার্লিন স্টেট ক্রিমিনাল অফিসের স্টেট সিকিউরিটি ইউনিট এই ঘটনাটিকে একটি রাজনৈতিক বা ঘৃণা-প্রসূত অপরাধ হিসেবে গণ্য করে তদন্ত শুরু করেছে।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানিতে মুসলিম নারী, বিশেষ করে যারা হিজাব পরিধান করেন, তাদের ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এবং জনবহুল রাস্তায় মুসলিমরা প্রায়ই ইসলামভীতির শিকার হচ্ছেন। জার্মানির সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের নিজ ধর্ম পালনের ও পোশাক পরিধানের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।এই ঘটনাটি কেবল একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং এটি নাগরিক সুরক্ষা ও সামাজিক সহাবস্থানের ওপর এক বড় আঘাত। একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্মীয় চিহ্নের কারণে কাউকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা এবং উম্মাহর মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত