প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
কলকাতায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মুসলিম তরুণীকে পুড়িয়ে হত্যা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক ৩০ বছর বয়সী মুসলিম তরুণীকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ ছারিওয়াল নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার নাম করে ডেকে নিয়ে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ ছারিওয়ালের পক্ষ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি বা দাবির বিষয়টি এখনো জনসমক্ষে আসেনি। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই তরুণীকে দীর্ঘকাল ধরে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন এবং নিজের প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। পাবলিক প্রসিকিউটর অরূপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন যে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের ধারায় মামলাটি আপগ্রেড করা হবে। ব্যাংকশাল আদালত ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। পুলিশের একটি পক্ষ খতিয়ে দেখছে যে, এই হামলার পেছনে কেবল বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ক্ষোভ ছিল নাকি অন্য কোনো পূর্বপরিকল্পিত উদ্দেশ্য জড়িত ছিল।ঘটনাটি ঘটে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার ময়দান থানা এলাকায়। নিহত নারী (৩০) একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। পুলিশ ও পরিবারের তথ্যমতে, অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ ওই তরুণীকে একটি চাকরির ইন্টারভিউয়ের কথা বলে ময়দান এলাকার এক নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর দুজনের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ তরুণীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।পথচারী ও পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে কলকাতার এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের ৯০ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল। দুই দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে সোমবার (৬ এপ্রিল) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর আগে হাসপাতালের বিছানায় দেওয়া এক জবানবন্দিতে তিনি স্পষ্ট করে বলে যান যে, সিদ্ধার্থই তার গায়ে আগুন দিয়েছে। নিহতের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, "আমার মেয়ে ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিল। হাসপাতালে ও আমাদের সব বলে গেছে। ও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল যে ও এই লোককে বিয়ে করবে না এবং তার দেওয়া চাকরিও নেবে না।" এই ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ভারতের অভ্যন্তরীণ নারী সুরক্ষা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার বিষয়টিকে আবারও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিকের জীবন রক্ষার অধিকার এবং স্বাধীনভাবে নিজের সঙ্গী নির্বাচনের অধিকার রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে বাধ্য। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, "ডাইং ডিক্লারেশন" বা মৃত্যুপূর্ব জবানবন্দি আইনি বিচারে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়, যা এই মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে স্পষ্ট সাক্ষ্য দিচ্ছে।এই ঘটনার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। ভুক্তভোগী পরিবারটি যাতে কোনো ধরণের প্রভাবশালী মহলের চাপে বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। নারীর প্রতি সহিংসতা এবং বিশেষত সংখ্যালঘু নারীদের লক্ষ্যবস্তু করার এই প্রবণতা রোধে কেবল গ্রেপ্তার নয়, বরং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রয়োজন।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত