প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬
ইসরায়েলি হামলায় পঙ্গুত্ব বরণকারী গাজার ইয়াসিরের আকুতি: আমি কি আর কখনো দৌড়াতে পারব?
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত হয়ে এখন ক্রাচ আর লোহার ফ্রেমের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে ১১ বছরের শিশু ইয়াসির আল-বাশাশ। একটি বুলেটের আঘাতে চুরমার হয়ে গেছে তার শৈশব। বর্তমানে গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের একটি জীর্ণ তাঁবুতে যন্ত্রণায় দিন কাটছে তার, যেখানে নেই কোনো প্রয়োজনীয় ওষুধ কিংবা চিকিৎসার নূন্যতম সুযোগ।ঘটনাটি ঘটেছিল অক্টোবর ২০২৫-এ। গাজার শেখ রাদওয়ান পাড়ায় ভাইদের সাথে খেলার সময় হঠাৎ ইসরায়েলি ড্রোন থেকে গুলি চালানো হয়। সেই হামলায় ঘটনাস্থলেই অনেকে প্রাণ হারান, আর ইয়াসিরের পেলভিস বা শ্রোণীচক্রে বিদ্ধ হয় একটি বুলেট। সেই থেকে তার বাম পা পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে। তার শরীরে এখন বসানো হয়েছে পেলভিক ফিক্সেশন ডিভাইস, যা তাকে চলাফেরার ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করেছে।ইয়াসিরের মা মাহা আল-বাশাশ অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, তাদের পরিবারের ট্র্যাজেডি এখানেই শেষ নয়। ইয়াসিরের বড় ভাই এবং বাবাও ইসরায়েলি হামলায় আহত। ফলে পরিবারের জন্য ত্রাণ বা পানির লাইনে দাঁড়ানোর মতো সক্ষম কোনো পুরুষ সদস্য আর অবশিষ্ট নেই। মাহা বলেন, "গাজায় কোনো ওষুধ নেই। সীমান্ত বন্ধ থাকায় চিকিৎসা সরঞ্জাম ঢুকছে না। আমার ছেলে স্কুল, খেলাধুলা—সবকিছু থেকে বঞ্চিত।"ইয়াসির এখন আর স্কুলে যায় না। তার মনে এক গভীর আতঙ্ক বাসা বেঁধেছে। সে বলে, "আমি স্কুলে যেতে ভয় পাই। ভয় হয় কেউ যদি আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়! আমি শুধু চাই বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে, যেন আবার অন্য বাচ্চাদের মতো দৌড়াতে পারি।"গাজার স্বাস্থ্য খাতের ধ্বংসস্তূপের মাঝে ইয়াসিরের মতো হাজারো শিশু এখন বিদেশের মাটিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশ্ববাসীর কাছে আকুতি জানাচ্ছে। তাদের স্বপ্ন—সুস্থ হয়ে বড় হয়ে তারা ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবে, যেন তাদের মতো অসহায় মানুষের সেবা করতে পারে। কিন্তু অবরুদ্ধ গাজার বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই স্বপ্ন এখন ফিকে হয়ে আসছে।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত