প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
বিহারে রোজা রাখা নারীকে পিটিয়ে হত্যা: প্রধান অভিযুক্তের জামিনে বীরোচিত সংবর্ধনা
ভারতের বিহার রাজ্যের মধুবাণী জেলায় রোজা রাখা অবস্থায় রওশন খাতুন নামক এক নারীকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মাগানু সিং জামিন পেয়েছেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া সেই পাশবিক ঘটনার ১৯ জন আসামির মধ্যে সিং ছিলেন একমাত্র গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি। তার মুক্তি লাভের পর স্থানীয় গ্রামে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা ও স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় নিহতের পরিবার ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।মাগানু সিংয়ের মুক্তি উপলক্ষে গ্রামবাসী এবং তার পরিবার তাকে মালা পরিয়ে এবং 'জিন্দাবাদ' স্লোগান দিয়ে বরণ করে নেয়। অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জামিন পেয়েছেন এবং মামলাটি একটি 'সাধারণ গ্রাম্য বিবাদ' থেকে উদ্ভূত। বিহার পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে ১৯ জন নামধারী আসামির মধ্যে ১৮ জন কেন এখনো অধরা, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।ঘটনাটি শুরু হয় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি, যখন আমহি গ্রামের বাসিন্দা রওশন খাতুন একটি বিবাদ মীমাংসার জন্য স্থানীয় গ্রাম প্রধান (মুখিয়া) কুমারী দেবীর বাড়িতে যান। নিহতের স্বামী মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের অভিযোগ, সেখানে মুখিয়ার ছেলে মাগানু সিং ও তার সহযোগীরা রওশনকে লাঠি ও জুতো দিয়ে নির্বিচারে মারধর করে এবং খুঁটির সাথে বেঁধে রাখে।রওশন তখন রোজা পালন করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তৃষ্ণার্ত অবস্থায় পানি চাইলে হামলাকারীরা তাকে অবমাননাকরভাবে প্রস্রাব মিশ্রিত মদ পানে বাধ্য করে। গুরুতর আহত রওশন ১ মার্চ পাটনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, হত্যা মামলার আসামিকে এভাবে প্রকাশ্য সংবর্ধনা দেওয়া বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি নেতিবাচক বার্তা। মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে যে, ভুক্তভোগী পরিবারটি সংখ্যালঘু এবং দরিদ্র হওয়ার কারণে পুলিশি তদন্তে শৈথিল্য দেখা যাচ্ছে। ১৯ জন আসামির মধ্যে মাত্র একজনকে গ্রেফতার এবং বাকিদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।একটি সভ্য সমাজে অপরাধের বিচার হওয়ার আগেই অভিযুক্তকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া কেবল ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি অবমাননা নয়, বরং তা ন্যায়বিচারের পথকেও কণ্টকাকীর্ণ করে তোলে। রওশন খাতুনের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এখন প্রশাসনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত