প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
ফ্রান্সে ‘নারীদের বিশেষ স্থান’ রাখা হালাল রেস্তোরাঁ বন্ধ: নেপথ্যে কি স্বাস্থ্যঝুঁকি না কি ইসলামবিদ্বেষ?
ফ্রান্সের লিঁও শহরের নিকটবর্তী ‘সেভেন টাইমস’ নামক একটি হালাল রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির স্থানীয় প্রশাসন। রেস্টুরেন্টটিতে নারীদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা বসার ব্যবস্থা করায় দেশজুড়ে ‘লিঙ্গবৈষম্য’ ও ‘সামাজিক বিচ্ছিন্নতা’র অভিযোগ তুলেছিলেন রাজনীতিবিদেরা। তবে শেষ পর্যন্ত ‘স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের’ কারণ দেখিয়ে এটি সিলগালা করা হয়েছে।ফ্রান্সের আইন প্রণেতাদের একটি অংশ রেস্টুরেন্টটির বিরুদ্ধে ‘অবৈধ বৈষম্য’ সৃষ্টির অভিযোগ আনেন। বিশেষ করে আইন বিভাগের সদস্য জেরোম বুইসন এই পদক্ষেপকে সরাসরি টার্গেট করেন। সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, রেস্টুরেন্টটি নারীদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা রাখার মাধ্যমে ফ্রান্সের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধে আঘাত করছিল।কয়েক মাস আগে ‘সেভেন টাইমস’ রেস্টুরেন্টটি তাদের প্রতিষ্ঠানে ১০০% নারীদের জন্য সংরক্ষিত একটি পৃথক জোন চালু করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ফ্রান্সে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। একদল নারী একে ‘নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক পরিবেশ’ হিসেবে স্বাগত জানালেও, কট্টরপন্থীরা একে ধর্মীয় চরমপন্থার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেন।সম্প্রতি অভিযোগের ভিত্তিতে পৌর কর্তৃপক্ষ সেখানে পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে ‘অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ’ ও ‘স্বাস্থ্যবিধি অপর্যাপ্ততা’র রিপোর্ট পেশ করা হলে লিঁও প্রিফেকচার (গভর্নর অফিস) এটি বন্ধের নির্দেশ দেয়।মানবাধিকারকর্মী এবং মুসলিম কমিউনিটির অনেকের মতে, স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি কেবল একটি অজুহাত। তারা একে ফ্রান্সের মুসলিম মালিকানাধীন বা ‘হালাল’ ব্যবসার ওপর পরিকল্পিত হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। যদিও প্রশাসন বলছে, এটি জনস্বাস্থ্য রক্ষার সাধারণ পদক্ষেপ। তবে এই বন্ধের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্পষ্টত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।ফ্রান্সের এই ঘটনাটি আবারো ব্যক্তিগত পছন্দ এবং রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতার সংঘাতকে সামনে নিয়ে এসেছে। যেকোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে পক্ষপাতহীনতা এবং ইনসাফ বজায় রাখাই একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত