প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
লন্ডনে মসজিদ নির্মাণের জন্য কেনা ভবনে অগ্নিসংযোগ: মূল তথ্য এড়িয়ে গণমাধ্যমে প্রচারের অভিযোগ
লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকায় মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের জন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের কেনা একটি ভবনে পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। তবে মূলধারার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ভবনটিকে কেবল ‘সাবেক সিনাগগ’ হিসেবে উল্লেখ করায় তথ্য বিভ্রান্তির অভিযোগ উঠেছে।বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান এবং আল-জাজিরার মতো বড় সংবাদ সংস্থাগুলো এই হামলাকে ‘সাবেক সিনাগগে হামলা’ হিসেবে প্রচার করেছে। অনেক ক্ষেত্রে একে ইহুদি বিদ্বেষ বা ‘অ্যান্টিসেমিটিক’ হামলার ধারাবাহিকতা হিসেবে ফ্রেমবন্দি করা হয়েছে। এমনকি কিছু প্রতিবেদনে এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যে ‘উগ্র ইসলামি’ হুমকির মাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টিও অপ্রাসঙ্গিকভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।তদন্তে জানা গেছে, হোয়াইটচ্যাপেলের ওই ভবনটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ছিল এবং সম্প্রতি একটি উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায় এটি কিনে নেয়। বর্তমানে সেখানে মসজিদ নির্মাণের কাজ চলছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হামলাকারী ইচ্ছাকৃতভাবে ভবনের সামনের প্রবেশপথে আগুন ধরিয়ে দেয়, যাতে দরজা ও তালার ক্ষতি হয়েছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে আগুনটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লাগানো হয়েছিল। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট বর্তমানে ঘটনার তদন্ত করছে।যদিও গণমাধ্যমগুলো একে ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হিসেবে দেখাচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে আক্রান্ত সম্পদটি এখন মুসলিমদের। এর আগেও যুক্তরাজ্যে মুসলিম ও ইহুদিরা একসাথে আক্রান্ত হলেও মূলধারার মিডিয়া কেবল একতরফা বয়ান প্রচার করেছে বলে অভিযোগ আছে। মানবাধিকার কর্মী ও স্থানীয় কমিউনিটি নেতারা বলছেন, সত্য গোপন করে সংবাদ পরিবেশন করায় প্রকৃত ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সামাজিক মেরুকরণ বাড়ছে।একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা যে কোনো বিচারেই নিন্দনীয়। তবে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা এবং ভুক্তভোগীর সঠিক পরিচয় তুলে ধরা গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব।
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত