প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে 'মসীহ' দাবি করা সেই ধর্মপ্রচারক কি আসলেই গ্রেপ্তার?
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘দ্বিতীয় মসিহ’ হিসেবে ঘোষণা করা এক টেলিভিশন ধর্মপ্রচারক মাদক তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন—এমন একটি খবর সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া এই দাবিটির কোনো সত্যতা নেই এবং এটি একটি বানোয়াট সংবাদ।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, টেক্সাসের জনৈক ধর্মপ্রচারক ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আধ্যাত্মিক ত্রাণকর্তা এবং ইরান সংঘাতকে ‘কেয়ামতের লক্ষণ’ হিসেবে প্রচার করছিলেন। দাবির সপক্ষে বলা হয়:উক্ত প্রচারক দাবি করেছিলেন, ২০২৬ সালের ১৪ জুন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা স্বর্গে আরোহণ করবেন।অভিযোগ তোলা হয় যে, চার্চের বেজমেন্টে মেথামফেটামিন (মাদক) তৈরির সময় পুলিশ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে।পোস্টগুলোতে পুলিশের লোগো সম্বলিত বানোয়াট তথ্য ও ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়।ঘটনাটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই সংবাদের কোনো দাপ্তরিক ভিত্তি নেই। বিস্তারিত তথ্যে যা পাওয়া গেছে:এই খবরটি মূলত এমন একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে ছড়িয়েছে যা নিয়মিত ব্যঙ্গাত্মক বা কাল্পনিক (Fiction) কনটেন্ট তৈরি করে।২০২৪ সালেও ঠিক একইভাবে ট্রাম্পকে ‘নবী’ হিসেবে দাবি করা এক প্রচারকের গ্রেপ্তারের গুজব ছড়ানো হয়েছিল। বর্তমান ঘটনাটি সেই একই ধরণের অপপ্রচারের পুনরাবৃত্তি।যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্থানীয় পুলিশ বিভাগ বা নির্ভরযোগ্য সংবাদ সংস্থা এই ধরণের কোনো গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেনি। মাদক উৎপাদনের যে বৈজ্ঞানিক বা আইনি প্রমাণের কথা বলা হয়েছে, তার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ধর্মীয় মোড়কে উপস্থাপনের এই প্রবণতা বাড়ছে। এটি একদিকে যেমন ধর্মীয় অনুভূতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, অন্যদিকে রাজনৈতিক মেরুকরণকেও উসকে দেয়। আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলো জানিয়েছে, কোনো প্রকার স্বাধীন বা নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়া এই সংবাদটি শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এটি মূলত একটি ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা যা ক্লিকের সংখ্যা বাড়াতে তৈরি করা হয়েছে।ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উন্মাদনা নতুন কিছু নয়। ইতিপূর্বেও অনেক উগ্রপন্থী ধর্মপ্রচারক তাকে আধ্যাত্মিক সত্তা হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেছেন, যা প্রায়শই সামাজিক অস্থিরতা এবং ভুল তথ্যের জন্ম দিয়েছে।তথ্য যাচাই ছাড়া যেকোনো চাঞ্চল্যকর সংবাদ গ্রহণ করা ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। টেক্সাসের এই তথাকথিত ধর্মপ্রচারকের গ্রেপ্তারের খবরটি সম্পূর্ণরূপে বানোয়াট এবং এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ