প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
সড়কে নামাজ বন্ধে উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানাল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ
ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে রাস্তায় নামাজ পড়ার বিরুদ্ধে নেওয়া সাম্প্রতিক কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। সংগঠনটির দাবি, রাস্তাঘাট কেবল জনসাধারণের যাতায়াত ও সুবিধার জন্য তৈরি, ধর্মীয় আচার পালনের জন্য নয়। তবে এই সিদ্ধান্ত ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বৈষম্যের বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।ভারতের উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে রাস্তায় নামাজ পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্তকে জোরালো সমর্থন জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)।ভিএইচপির জাতীয় মুখপত্র বিনোদ বনসল এক ভিডিও বিবৃতিতে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রশংসা করে বলেন, "যোগী আদিত্যনাথ একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন যে, রাস্তা কেবল মানুষের যাতায়াতের জন্য। রাস্তায় নামাজ পড়া এখন একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।"তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুম্মার দিন (শুক্রবার), ঈদ এবং অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবে রাস্তাঘাট বন্ধ করে নামাজ আদায় করা হয়, যার ফলে ব্যাপক যানজট তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। এমনকি অনেক সময় জরুরি সেবার জন্য নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্সও যাতায়াত করতে পারে না। উত্তরপ্রদেশ সরকার পূর্বে এই বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকলেও, বর্তমানে বিক্ষিপ্ত কিছু আইন লঙ্ঘনের ঘটনার পর এই নিয়ম আরও কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।একই সঙ্গে, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গৃহীত পদক্ষেপকেও স্বাগত জানান বনসল এবং আশা প্রকাশ করেন যে এর মাধ্যমে বাংলার রাস্তাঘাট সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।সরকার ও ভিএইচপির পক্ষ থেকে যাতায়াতের সুবিধার কথা বলে নামাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও, এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে যে, ভারতে প্রায় প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ধর্মীয় পূজা, উৎসব, এবং দীর্ঘস্থায়ী পদযাত্রার (যেমন- কাঁওয়ার যাত্রা বা ধর্মীয় শোভাযাত্রা) আয়োজন করা হয়, যা দিনের পর দিন রাস্তা অবরুদ্ধ করে রাখে। সেই উৎসবগুলোর কারণে কি তীব্র জনদুর্ভোগ এবং যানজটের সৃষ্টি হয় না?সপ্তাহে মাত্র এক দিনের কয়েক মিনিটের জুম্মার নামাজ কিংবা বছরে মাত্র দুই দিনের ঈদের নামাজের কারণে যদি নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হয়, তবে কেন অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী ধর্মীয় শোভাযাত্রার ক্ষেত্রে ভিন্ন নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে? এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত কেবলই রাজনৈতিকভাবে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করার প্রয়াস বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই ধরনের আইন বা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা অনেক সময় নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘুকে লক্ষ্যবস্তু করার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ